সিপ্লাস প্রতিবেদক: নগরীতে অজ্ঞান পার্টির দৌরাত্ম্য কিছুটা কমলেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পকেটমার চক্র। এ চক্রের সাথে জড়িত আছে বাস হেলপারও বলে অভিযোগ ভুক্তভোগি যাত্রী সাধারণের।
জানা যায়;- বাসস্টপেজ, যাত্রীবাহী বাস, জনবহুল স্থান, শপিংমল, হাসপাতালে ওঁৎ পেতে থাকে চক্রের সদস্যরা। ৪ জন কিংবা ৫ জনের দলে বিভক্ত হয়ে পকেটমাররা শিকার ধরে। এদের হাত থেকে রক্ষা পায় না ভিক্ষুক ও বৃদ্ধ অসহায় মানুষ। এরা এলাকা ভাগ করে কর্মকান্ড চালায়। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় থাকে পকেটমারদের বিচরণ। তবে এদের বিচরণ বেশি বিভিন্ন বাসস্টপেজে। ভিড় দেখলেই গাড়িতে জোর করে ওঠে। মহিলা আসন খালি নেই জানালে ওরা হেলপার-সুপারভাইজারদের সঙ্গে তর্কে জড়ায়। কোনো কোনো সময় ভিড়ের মধ্যে গেটের রড ধরেও দাঁড়িয়ে থাকে। এদের মধ্যে প্রথমজন টার্গেট করা যাত্রীকে ধাক্কা খাওয়ানোর চেষ্টা করে। কিংবা গায়ে গা লাগিয়ে শিহরণ জাগানোর চেষ্টা করে। আর এ সুযোগে দ্বিতীয়জন ওই ব্যক্তির পকেট থেকে মানিব্যাগ পাচার করে দেয় তৃতীয় জনের হাতে। সে মানিব্যাগ কিংবা মোবাইলটি নিয়ে পরের স্টপেজে নেমে পড়ে। অর্থাৎ প্রথম জনের কাজ যাত্রীকে কায়দা করে ঘায়েল করা। আর দ্বিতীয় জনের কাজ ব্লেড চালিয়ে কিংবা হাত চালিয়ে মানিব্যাগ কিংবা মোবাইল হাতিয়ে নেয়া। আর তৃতীয় জনের কাজ হচ্ছে তা নিয়ে দ্রুত নেমে পড়া। সাধারণত যুবকরাই এদের শিকারে বেশি পরিণত হন।
শনিবার সকাল সাড়ে এগারটার দিকে প্রবর্তক মোড় থেকে লাভলেইনের উদ্দেশে ৩ নম্বর রাইডার বাসে ওঠেন শিক্ষার্থী তৌফিক। বাসে সিট খালি না থাকায় ভিড়ের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বাসটি মেহেদীবাগ হয়ে কাজির দেউড়ি এলাকায় আসতেই তিনি প্যান্টের পকেটে হাত দিয়ে দেখেন এনড্রয়েট মোবাইল সেটটি নেই।
থানায় অভিযোগ করবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘থানায় গিয়ে লাভ কী। শুধু সময় নষ্ট। আর বাড়তি পুলিশি ঝামেলা।’ তৌফিকের মতো এরকম অনেকেই পকেটমারদের খপ্পরে পড়ছেন। খোয়াচ্ছেন টাকা ও মোবাইল ফোন। নগরীর ১ নং রোডে চলাচল করার বাস, ২ নং বাস, ৩নং রাইডার ও ৩নং ভার্সিটি তরী, ৪নং বাস, ৭নং বাস, ৮নং বাস, ১০ নং বাসে বেশির ভাগ নগর পরিবহনে পকেটমাররা যাত্রীবেশে উঠে অপকর্ম চালাচ্ছে। একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অফিস শুরু বা ছুটির সময় নগর পরিবহনের বাসে ভিড়ের মধ্যে চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও ছাত্ররাই বেশির ভাগ পকেটমারের শিকার হচ্ছেন। অক্সিজেন, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, প্রবর্তক মোড়, চাক্তাই, নিউমার্কেট, রিয়াজউদ্দীন বাজার, এনায়েতবাজার, কাজির দেউড়ি, জিইসি মোড়, আন্দরকিল্লা, সদরঘাট, টাইগারপার্স, দেওয়ানহাট, চৌমহনী, আগ্রাবাদ, বারেক বিল্ডিং, ফকিরহাট, কাস্টম মোড়, সল্টগোলা ক্রসিং, ইপিজেট, পতেঙ্গা, কর্ণেলহাট থেকে এরা যাত্রী বেসে গাড়িতে ওঠে। সুযোগ বুঝে কাজ করে আবার নেমে যায়। এলাকায় তারা নিজেদের গার্মেন্টকর্মী পরিচয় দেয়। নগরীতে তাদের একাধিক চক্র আছে। পোশাক-আশাকে তাদের পকেটমার ভাবা কঠিন। ফতেয়াবাদ থেকে নিউমার্কেটগামী ৩ নং রাইডারের কয়েকজন চালক ও হেলপার সিপ্লাসকে বলেন, সবাই তো যাত্রী বেশে উঠে। এখন কে পকেটমার সেটা চেনা যায় না।
সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশের কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) বলেন, যে কোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশি তৎপরতায় অজ্ঞান-মলম পার্টির অপরাধীরা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। পকেটমার চক্রে যারা সক্রিয় আছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








