Site icon CPLUSBD.COM

অধস্তন আদালতে স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: অধস্তন আদালতে আগাম জামিন, হাজতী আসামীর জামিন শুনানী, নতুন মামলা ফাইলীং, আসামীর রিমান্ড শুনানীসহ স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন আইনজীবী-বিচারপ্রার্থীরা।

৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন বিধি নিষেধে অধস্তন আদালতের স্বাভাবিক বিচারিক কার্যক্রম(স্বশরীরে বা ভার্চুয়াল) বন্ধ থাকাতে ভোগান্তিতে পডছেন আইনজীবী বিচারপ্রার্থীরা। তবে লকডাউনের বিধি নিষেধ ১০ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ানো হলেও অধস্তন আদালতে বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে নতুন কোন নির্দেশনা জারি করা হয়নি হাইকোর্ট থেকে।

গত ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন বিধি নিষেধের অধস্তন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচার শাখা থেকে জারীকত বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় প্রত্যেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একজন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী জেলা মহানগর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ পূর্বক শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্ব পালন করবেন।

আদেশে বলা হয়েছে,  আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত শিশুকে উক্ত সময়ে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় শারীরিক উপস্থিতিতে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট উপস্থাপন করা যাবে।

জারিকৃত নির্দেশনা আরও দেখা যায়, দি নেগোশিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট ১৮৮১ সহ যে সকল আইনে মামলা আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারিত আছে সেই সকল আইনের অধীনে মামলা আপিল শারীরিক উপস্থিতিতে এর কার্যক্রম শুরু হওয়ার সাত দিনের মধ্যে তামাদির মেয়াদ অক্ষুন্ন গন্যে দায়ের করা যাবে।

এই আদেশে অধস্তন আদালত কর্মরত সকল বিচারক এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ না করার জন্য বলা হয় এবং উক্ত সময়ে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীকে আদালত প্রাঙ্গণে না আসার জন্য বলা হয়েছিল।

এর আগে ১৪ জুলাই বুধবারের বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের বিচার থেকে জারিকৃত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “আগামী ১৫ জুলাই হতে ২২ জুলাই পযন্ত শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল উপস্থিতির মাধ্যমে দেশের অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালসমূহ আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি আইন, ২০২০ এবং (সুপ্রিম কোর্ট) কর্তৃক জারিকৃত এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনুসরণপূর্বক সকল প্রকার দেওয়ানি ও ফৌজদারি দরখাস্ত/আপিল/রিভিশন/বিবিধ মামলাসহ সকল প্রকার শুনানি গ্রহণ (সাক্ষ্য গ্রহণ ব্যতীত) ও নিষ্পত্তির নিদেশ দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে শারীরিক উপস্থিতিতে অধস্তন দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করা যাবে। স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শারীরিক উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণপূর্বক সাকসেশন ও অভিভাবকত্ব নির্ধারণ বিষয়ক মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি করা যাবে।

আসামি আত্মসমর্পণের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি/ব্যক্তিগণ অধস্তন ফৌজদারি আদালত এবং ট্রাইব্যুনালে শারীরিক উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণ করে আবেদন দাখিল করতে পারবেন।

শুনানির পদ্ধতি ও সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারণ ও সমন্বয় করতে বলা হয়েছে, যাতে আদালত প্রাঙ্গণ এবং আদালত ভবনে জনসমাগম না ঘটে। শারীরিক উপস্থিতিতে শুনানির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং তার পক্ষে নিযুক্ত আইনজীবী ছাড়া অন্য কেউ এজলাস কক্ষে অবস্থান করতে পারবেন না। একটি আত্মসমর্পণ দরখাস্ত শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী এজলাস ছাড়ার পর বিচারক পরবর্তী দরখাস্ত শুনানির জন্য গ্রহণ করবেন। দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের উপস্থিতি অতিব অবশ্যক নেই সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগণের পক্ষে নিযুক্ত বিজ্ঞ আইনজীবী হাজিরা প্রদান করিবেন। জামিন শুনানি ও আমলি আদালতের ধার্য তারিখে হাজিরার জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যান বা অন্য কোনভাবে আদালত প্রাঙ্গণে বা এজলাসে হাজির না করার জন্য বলা হয়ছে। তবে হাজতি আসামির রিমান্ড শুনানির ক্ষেত্রে আসামিকে ভার্চুয়ালি দেখে ম্যাজিস্ট্রেট রিমান্ড শুনানি নিতে পারবেন বলেও নির্দেশনা ছিল।

কিন্তু ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত লকডাউন বিধি নিষেধে অধস্তন আদালতের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত হাইকোর্ট নির্দেশনায় আদালতের স্বাভাবিক(ভার্চুয়াল/স্বশরীরে) বিচারিক কার্যক্রমে (আগাম জামিন, হাজতী আসামীর জামিন শুনানী, নতুন মামলা ফাইলীং, আসামীর রিমান্ড শুনানীসহ) নির্দেশ না থাকায় আইনজীবী-প্রার্থীদের এমন ভোগান্তিতে পডতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইনজীবী সংশ্লষ্টরা।

তবে পরবর্তী নির্দেশনায় বিচারপ্রার্থী পক্ষে ন্যায় বিচারের স্বার্থে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ প্রতিপালন সাপেক্ষে অধস্তন আদালত বিচারিক সকল কার্যক্রম ( ভার্চুয়াল/স্বরীরে) পরিচালনার নির্দেশ একান্ত কাম্য মনে করেন আইনজীবীরা।