ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, অনলাইনের মাধ্যমে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এতে অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের অর্থ আরও স্বচ্ছতার সাথে দেওয়া করা যাবে।
রবিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বিশেষ রাজস্ব সংক্রান্ত মাসিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ প্রদানের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, তবে এখনও ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে অনিয়মের অভিযোগ আসছে যা খুবই দুঃখ জনক; সরকার এসব ব্যাপার খুব কঠোর হস্তে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ৮ ধারার নোটিশের পর ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করে দেওয়ার ব্যাপারে মন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের আবারও নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, আগামী ১৭ মার্চ, ২০২০ থেকে নামজারির জন্যে কোন ম্যানুয়াল আবেদন গ্রহণ করা হবেনা। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বছরই ভূমি অফিসে নামজারির আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধ পরিকর।
কক্সবাজার জেলার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিশেষ রাজস্ব সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের সংসদ সদস্য জাফর আলম, আশেক উল্লাহ রফিক এবং সাইমুম সরওয়ার কমল। কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রাজস্ব সভায় উপস্থিত ছিলেন। রাজস্ব সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মোঃ হাবিবুর রহমান এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর, সহকারী কমিশনার (ভূমি), কানুনগো এবং তহশিলদারগণ।
উল্লেখ্য, রাজস্ব সভাতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, কক্সবাজার জেলায় মোট ৬২ টি এল.এ কেসের মাধ্যমে ১৫৫২৮ একর (প্রায়) জমির অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান। ২০১৮ সালে অতিরিক্ত ভূমি মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম হতে সর্বমোট ৫ জন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৭ জন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ১০ জন কানুনগো ও ৪৮ জন সার্ভেয়ার নিয়োগ/ পদায়ন করা হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন অভিযোগের গৃহীত ব্যবস্থা স্বরূপ ৮ জন সার্ভেয়ার, ২ জন কানুনগো কে বদলী, নিয়মিত বদলীর আওতায় ১১ জন সার্ভেয়ার, ১ জন কানুনগো এবং পদোন্নতি জনিত কারণে ১১ জন সার্ভেয়ার বদলী ও মামলাজনিত কারণে ১ জন গ্রেপ্তার, ২ জন পলাতক। বর্তমানে ৩ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের অধীনে ৩ জন ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৫ জন অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, ৭ জন কানুনগো এবং ১৫ জন সার্ভেয়ার কর্মরত আছে।
এছাড়াও জেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় ভূমিমন্ত্রী বলেন, তাঁর কাছে অনেক অভিযোগ আসছে যে বাংলাদেশ থেকে এ দেশের মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিদেশে অবৈধভাবে গমন করা কিছু কিছু মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। এছাড়া, জেলখানায় বাংলাদেশি নাগরিক ও বাস্ত্যুচ্যুত মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকদের আলাদা সেলে রাখার জন্য পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
এতে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি, বিজিবি, র্যাব, কোস্ট গার্ডের অধিনায়ক, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং বিভিন্ন সরকারী দপ্তরের জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এ বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন।








