নিউজটি শেয়ার করুন

অনির্দিষ্টকালের জন্য চট্টগ্রামের সকল ইটভাটা বন্ধ

অব্যাহত সাঁড়াশি অভিযানের প্রতিবাদ

ফাইল ছবি

সিপ্লাস প্রতিবেদক: শুধুমাত্র চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘটে নেমেছে চট্টগ্রাম ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতি। আজ শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অনির্দিষ্টকালের জন্য এ ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেয়ার পর সকল ইটভাটা বন্ধ রাখা হয়।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে ঘোষণা দেয়া হবে।

সমিতির নেতৃবৃন্দ বিষয়টি সিপ্লাসকে নিশ্চিত করেছেন।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রামে সকল ইটভাটায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রেখেছে। অভিযানে নানা অভিযোগে বেশিরভাগ ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

নেতৃবৃন্দের দাবি, এ ধরনের অভিযানে দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

হাটহাজারী ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, একটি পরিবেশ ও মানবাধিকার সংগঠনের রিটের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের সকল ইটভাটায় অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। অভিযানে বেশিরভাগ ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যা আমরা অমানবিক ও ধ্বংসাত্মক মনে করি। এতে নানা মহলে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, কমবেশি দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ইটভাটা থাকলেও শুধু মাত্র চট্টগ্রামের ব্যাপারে আইনের আশ্রয় নেয়া কখনো ‍যুক্তি সঙ্গত নয়। তাছাড়া আদালতের নির্দেশে কেবল বয়লার দিয়ে পরিচালিত ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযানের কথা বলা হয়েছে। অথচ সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক গড়ে তোলা ইটভাটাও নানা অসঙ্গতির অভিযোগে গুড়িয়ে দেয়ায় সবাই হতবাক। যে কোন অনিয়ম বা অসঙ্গতির ক্ষেত্রে মামলা অথবা জরিমানা করা যেতে পারে। তা না করে পরিচালিত ধ্বংসাত্ম কর্মকান্ড দেশের উন্নয়নকান্ড বাধাগ্রস্ত হবে। বর্তমানে চট্টগ্রামের প্রতিটি অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারিভাবে ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প পরিচালিত হচ্ছে। শুস্ক মৌসুম হওয়া নির্মিত হচ্ছে মানুষের বাড়ি-ঘর ও নানা স্থাপনা। অভিযান অব্যাহত থাকলে ইটশিল্প বন্ধ হয়ে সকল উন্নয়ন কর্মকান্ড স্থবির হয়ে পড়বে। এতে সমগ্র দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

হাটহাজারী ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ জানান, ইটভাটার সাথে সরকারের রাজস্বের বিশাল একটি অংশ জড়িত। এ শিল্পে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ রয়েছে। পরিবহনসহ বিভিন্ন সেক্টরের হাজার হাজার শ্রমিক এ শিল্পের উপর নির্ভরশীর। যে কারণে বাধ্য হয়ে আমরা ধর্মঘটের সিদ্ধান নিয়েছি। সিদ্ধান্তের পর আজ শুক্রবার থেকে সক ইটভাটা বন্ধ রয়েছে। শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পাশাপাশি ধর্মঘটের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হবে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ ও মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) পক্ষে ২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়। সেই রিটের শুনানি নিয়ে সাতদিনের মধ্যে চট্টগ্রামে অবৈধভাবে পরিচালিত সকল ইটভাটা বন্ধ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশসহ রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

গত ৩১ জানুয়ারি বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হাসান মোল্লার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ পরিবেশ অধিদফতরের অনুমোদন ছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় চলমান অবৈধ ইটভাটাগুলো বন্ধে আবারও নির্দেশ দেন।অবৈধ ইটভাটা বন্ধের এ পদক্ষেপ ঠেকাতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হন চট্টগ্রামের ২৩ ইটভাটার ১৮ মালিক।

তবে অবৈধ ইটভাটা বন্ধে হাইকোর্টের সেই আদেশ বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।