নিউজটি শেয়ার করুন

অনুপ বিশ্বাসের সেকেন্ড ইন কমান্ড প্রিন্স সাগরের আস্তানায় অভিযান; চোলাই মদ সহ আটক ১

নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী অনুপ বিশ্বাসের সেকেন্ড ইন কমান্ড প্রিন্স সাগর দাশের অবৈধ মাদকের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে টিম কোতোয়ালী৷ এই অভিযানে সাগর ও অজয় পালিয়ে গেলেও ৪৫০ লিটার চোলাই মদ সহ গ্রেফতার হয় ইমন দাশ৷

কোতোয়ালী থানা পুলিশের সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ১৫ মার্চ রাতে কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন ফিশারীঘাটস্থ সাগরের দোকানের অভিযান চালায় টিম কোতোয়ালী। এসময় সেখান থেকে চারটি ড্রাম, বিভিন্ন সাইজের বোতল ও পলিথিনের মধ্যে রাখা ৪৫০ লিটার চোলাইমদ সহ ইমন দাশ(২১), পিতা-বাচন দাশ, মাতা-বজ বালা দাশ, সাং-ফিশারীঘাট, মনোহরখালী, বাচন দাশের বাড়ী, থানা-কোতোয়ালী, জেলা-চট্টগ্রামকে গ্রেফতার করে৷

গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন দাশ জানিয়েছে, সাগর দাশ ও অজয় দাশের সহযোগীতায় এই স্থানে দীর্ঘদিন যাবত বিভিন্ন স্থান হতে পাইকারী মূল্যে উক্ত চোলাইমদ সংগ্রহ করে মজুদ করার পাশাপাশি খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রয় করে আসছিল।

গ্রেফতার ইমন দাশের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে ০১টি মামলা রুজু হয়। উল্লেখ্য পলাতক আসামী সাগর দাশ ও অজয় দাশের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হইয়েছে। এই অভিযান কোতোয়ালী থানা পুলিশের এসআই/সজল কান্তি দাশ, এসআই/কেএম তারিকুজ্জামান, এসআই/ এএসআই/অনুপ কুমার বিশ্বাস ও এএসআই/রুহুল আমিন অংশ নেন৷

নগরীর ফিশারীঘাট এলাকাবাসি সিপ্লাসকে জানিয়েছে, এখানে দিনে অনুপ আর রাতে সাগরের মাদকের আস্তানায় অবাদে চোলাই মদ বেচা হয়৷ মূলত মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আড়ালে অনুপ বিশ্বাস দীর্ঘদিন এই এলাকায় একাধিক মাদকের আস্তানা গড়ে তুলেছে৷ প্রথম দিকে কেবল সরকার অনুমোদিত দেশী মদ বিক্রি করলেও ধিরে ধিরে চোলাই মদ ও ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে অনুপ বিশ্বাস৷ আর অনুপ বিশ্বাসের হয়ে এসব কিছু দেখা শোনা করতো সাগর দাশ প্রকাশ প্রিন্স সাগর৷ জানা গেছে সাগর দাশ ও তার ভাই সবুজ দাশ রাতের বেলা অবৈধ মদ বিক্রির ব্যবসা একক ভাবে নিয়ন্ত্রন করতো৷ সেখানে মদের পাশাপাশি ইয়াবা খুচরা ও পাইকারী বিক্রি করা হয়৷ অজয় দাশ অনুপ বিশ্বাসের ছায়া সঙ্গি এবং অঘোষিত পিএস৷ যদিও কিছুদিন আগে অজয় দাশ নিজেকে পিএস স্বিকার না করলেও সে অনুপ বিশ্বাসের সাথে চলাফেরার পাশাপাশি অনুপ বিশ্বাসের ফেসবুকে ছবি সহ স্টাটাস শেয়ারের কাজ করতো বলে স্বিকার করেছিলো।

কোতোয়ালী থানা পুলিশের অভিযানের পর পর সাগর ও অজয়কে একটি মোটর সাইকেল করে চলে যেতে দেখা গেলেও রাত ১ টার পর সাগর দাশ আবারো এলাকায় ফিরে এসেছে বলে এলাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন৷ মূলত অনুপ বিশ্বাস কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ায় প্রতিরাতে নগদ টাকার জোগান বাড়াতে বিপুল পরিমান চোলাই মদ মজুদ ও বিক্রি করা শুরু করে সাগর দাশ৷ দীর্ষদিন সর্ব মহলে প্রিন্স সাগর উপাধি নিয়ে বিচরণ করলেও এবার টিম কোতোয়ালীর অনঢ় অবস্থানের কারণে ধরা পড়লো সাগরের সহযোগী৷

একটি সূত্র জানিয়েছে সাগরের ভাই সবুজের হাতে বর্তমানে বিপুল অংকের টাকা গচ্ছিত রেখেছে পাথরঘাটা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী অনুপ বিশ্বাস৷ তার মিষ্টি কুমড়া মার্কার পক্ষে ভোট কেনার কাজ চালাচ্ছে সবুজ৷ এই পলাতক সিন্ডিকেটদের গ্রেফতার করা গেলে বেরিয়ে আসবে অনুপ বিশ্বাসের অনেক অজানা কাহিনী৷