নিউজটি শেয়ার করুন

অপরাধ নগরিঅ তিনবছর জেইল খাডি বাইর অইবার ১২ দিনর মাথাত লাশ অইল মিনু(ভিডিওসহ)

অপরাধ নগরিঅ তিনবছর জেইল খাডি বাইর অইবার ১২ দিনর
সিপ্লাস প্রতিবেদক: বিনা অপরাধে প্রায় তিনবছর কারাভোগের পর মুক্তি পাওয়া মিনু আক্তার মাত্র ১২ দিনের মাথায় সড়ক দূর্ঘটনায় অজ্ঞাত লাশ হয়ে গেলেন।
২৮ জুন রাতে মিনু নগরীর বায়েজিদ লিংক রোডে গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। পুলিশ মিনুর লাশটি উদ্ধার করলেও পরিচয় নিশ্চিত হতে না পারায় আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম এর মাধ্যমে অজ্ঞাত লাশ হিসেবে দাফন করে।
শনিবার (৩ জুলাই) রাতে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান মিনুর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অজ্ঞাত পরিচয় লাশটির পরিচয় শনাক্ত করতে লাশের ছবিটি মিনুর ভাই রুবেলকে দেখানো হলে রুবেল মিনুকে শনাক্ত করে।
কামরুজ্জামান জানান, ঘটনার রাতে মিনু রাস্তায় লাফিয়ে লাফিয়ে চিৎকার করছিলেন। টহল পুলিশ তাকে রাস্তা থেকে দুইবার সরিয়ে দিয়েছিল।
উল্লেখ্য গত ১৬ জুন, বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত চতুর্থ মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞার আদালত মিনুকে মুক্তির আদেশ দেয়ার পরপরই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান।
তাকে আইনি সহায়তা দেন এডভোকেট গোলাম মাওলা মুরাদ।
মুরাদ জানান, গত ১৮ মার্চ চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান নারী ওয়ার্ড পরিদর্শনকালে মিনু কোনো মামলার আসামি নয় বলে জানতে পারলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হয়।
নামের মিল না থাকার পরও কুলসুম আক্তার কুলসুমী নামে এক নারীর পরিবর্তে মিনু কারাভোগ করছেন। কোনো কিছুর মিল থাকায় একজনের স্থলে আরেকজন জেল খাটার বিষয়টি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শফিকুল ইসলাম খান আদালতের নজরে আনেন।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের জুলাই মাসে নগরের কোতোয়ালী থানার রহমতগঞ্জের একটি বাসায় মোবাইলে কথা বলা নিয়ে গার্মেন্টসকর্মী কহিনুর আক্তারকে গলাটিপে হত্যার ঘটনা ঘটে। এরপর মরদেহটি একটি গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। কিন্তু কহিনুর আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি করেন অপরাধী কুলসুম আক্তার কুলসুমী। এঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়। পুলিশ দুই বছর তদন্ত শেষে কহিনুরকে হত্যা করা হয় বলে প্রতিবেদন দেন। এতে আসামী করা হয় কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে আদালত কহিনুর আক্তারকে হত্যা মামলায় আসামি কুলসুম আক্তার কুলসুমীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তবে সাজার পরোয়ানামূলে কুলসুম আক্তার কুলসুমী বদলে মিনুকে ২০১৮ সালের ১২ জুন কারাগারে পাঠানো হয়।