নিউজটি শেয়ার করুন

অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পেল সেই সিরাজ খাতুন

সিপ্লাস প্রতিবেদক: রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক সেই সিরাজ খাতুন অবশেষে জেল থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

মঙ্গলবার(২৯ জুন) সকালে তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন।

এর আগে ১৬ জুন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ আটককৃত সিরাজ খাতুনকে স্থানীয় এমপির জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।

মুক্তিপাওয়া সিরাজ খাতুন(৩৩) চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার খুরুশিয়া সাকিনের মৃত নূর ইসলামের মেয়ে।

বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের সভাপতি এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান কারা ফটকে সিরাজ খাতুনকে ফুল দিয়ে বরন করে নেন।

এডভোকেট জিয়া হাবিব আহসান বলেন, উপজেলা চেয়াম্যানের জিম্মায় সিরাজ খাতুনকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

গত ৩ জুন বৃহস্পতিবার মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিস থেকে রোহিঙ্গা সন্দেহে তাকে গ্রেপ্তার করে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। ১০ বছর আগে রোহিঙ্গা যুবক সিদ্দিক আহমদের সাথে প্রেমের সম্পর্কে বৈবাহিক প্রতারণার শিকার হন সিরাজ খাতুন।

সিদ্দিক আহমদ তার আসল পরিচয় গোপন রেখে সিরাজ খাতুনকে বিবাহ করে অন্যত্র পালিয়ে যায়। পরে সিৱাজ খাতুনেৱ পরিবাৱ তাদের মেনে না নিলে সিদ্দিক আহমদ সিরাজ খাতুনকে বিভিন্নভাবে শারীরিক মানসিক নির্যাতন শুরু করে।

এক সময় সিদ্দিক আহমদ সিরাজ খাতুন এর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব থেকে সরে পরে।

২০১৮ সালে রোহিঙ্গা সিদ্দিক আহমদ রোহিঙ্গা শিবিরে ত্রাণ সহায়তার লোভে  সিরাজ খাতুন এর আসল নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে (সালমা খাতুন) হিসেবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধন করিয়ে নেন। এরমধ্যে তার উপর রোহিঙ্গা স্বামীর অত্যাচার চলতে থাকে। অবশেষে সিরাজ খাতুনের রোহিঙ্গা স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেৱে তার দুই সন্তান নিয়ে রাঙ্গুনিয়ার খুরুশিয়া গ্রামের তার নিজ বাবার বাড়িতে চলে আসেন। আগে রোহিঙ্গা যুবকের সাথে পালিয়ে বিয়ে করায় তার পরিবারের লোকজন তাকে মেনে নিতে রাজি  না হলে নিরুপায় হয়ে তার দুই সন্তান নিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহের জন্য এক আত্মীয়ের পরামর্শে বিদেশে কর্ম কাজ করার সুবাদে পাসপোর্ট ভিসা করার জন্য মনসুরাবাদ পাসপোর্ট অফিসে গেলে পাসপোর্ট অফিসের নিয়ম অনুযায়ী আঙুলের ফিঙ্গার প্রিন্ট যাচাই বাছাইকালে সার্ভারে তার নাম রোহিঙ্গা স্বামীর প্রতারিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিবন্ধিত নতুন নামের (সালমা খাতুন) মিল পাওয়াই রোহিঙ্গা সন্দেহে আটক করে ডবলমুরিং থানায় সোপর্দ করে।

পরবর্তীতে গত ৪ জুন আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।

আইনজীবী জিয়া জানান, সিরাজ খাতুন ইতোপূর্বে ২০০৮ সালে বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয় পত্রে তার নাম নিবন্ধন হয়। তার পিতা-মাতা ভাই সহ সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক। সিরাজ খাতুন এর পিতা মারা গেলে স্থানীয় চেয়ারম্যান কর্তৃক ইস্যুকৃত মৃত্যু সনদপত্র, জাতীয়তা সনদপত্র এবং উত্তরাধিকার সনদপত্রে উক্ত সিরাজ খাতুনে নাম উল্লেখ আছে। যথারীতি বুধবার উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে সিরাজ খাতুন এর পক্ষে জামিন আবেদন দাখিল করলে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে স্থানীয় এমপির জিম্মায় জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন।

কিন্তু সংসদ অধিবেশন থাকার কারনে স্থানীয় এমপি তথ্য মন্ত্রীকে না পাওয়ায় স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যানের জিম্মায় জামিনে মুক্তি দেয়া হয়েছে।