জোবাইর রিফাত: করোনার এই মাহামারির দিনে কেউ কারো পাশে একটু সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়াতে হলে গোটা একটা কলিজার প্রয়োজন। তাই সচরাচর যারাই এই দুর্দিনে জাগ্রত বিবেকের পরিচয় দিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে তারা নি:সন্দেহে পুণ্যের কাজ করছে।আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমনও দেখেছি, একটি ত্রাণের প্যাকেট ২০ জনে মিলে ১ জনের হাতের তুলে দিচ্ছে। ত্রাণগ্রহীতা সেটি আবার নিতেও পারছেনা ছবি উঠানো শেষ না হওয়া অবধি।
কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠও তো আছে।যারা কোটি কোটি টাকার দান করে যাচ্ছেন প্রচারবিমুখ হয়ে।
একজনের গল্প শোনাব আজ আপনাদের। তিনি প্রায় কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন। কিন্তু নিজের নাম প্রকাশে একেবারেই অনিচ্ছুক জনৈক ব্যবসায়ী।
করোনা টেস্টের জন্য চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে অত্যাধুনিক পিসিআর ল্যাব স্থাপনে তিনি ৮০ লক্ষ টাকা অনুদান দিয়েছেন বলে সিপ্লাসকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ট্রেজারার মো: রেজাউল করিম আজাদ।
শুধু তা-ই নয় তিনি সম্প্রতি করোনা টেস্ট চালু করারা জন্য দিয়েছিলেন ৮ লক্ষ টাকা।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আজীবন সদস্য উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন।
এত এত অর্থ সহযোগিতা দিয়েও নাম প্রকাশে অনিচ্ছা কেন সেটি সবার প্রশ্ন থাকলেও- এর উত্তর আমার আপনাদের কোনোভাবেই জানাতে পারছিনা্। কারণ স্বয়ং তিনিই (জনৈক ব্যবসায়ী) নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক।
মূলত তিনি চট্টগ্রামের বাসিন্দা নন। ঢাকার একজন বনেদি ব্যবসায়ী! বন্ধুত্বের সূত্রে এই প্রস্তাব দেন বলে জানান মা ও শিশু হাসপাতালে র ট্রেজারার রেজাউল করিম আজাদ।
এবার একটু পেছনের দিকে যেতে চায় আপনাদের নিয়ে। গেলো কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কিংবা করোনা পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রাইভেটি ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা না পেয়ে রোগী মৃত্যুর অভিযোগ আপনারা সবাই ইতিমধ্যে জানেন। এছাড়া প্রধান কয়েকটি ল্যাব ছাড়া কোথাও খুব একটা করোনার টেস্ট হয়না বলে চট্টগ্রামের প্রায় ৭০ লাখ মানুষ বাড়তি আতংকের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে।
এর মাঝে মোটা অংকের এই সহযোগিতা চট্টগ্রামবাসীকে চিকিৎসা সেবা পেতে নি:সন্দেহে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।
চট্টগ্রামের মা ও শিশু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যমতে, ইতিমধ্যে জনৈক ব্যক্তির দেয়া ৮০ লক্ষ টাকার চেকটি তারা ক্যাশে ভাঙিয়ে নিয়েছেন। ২/৩ দিনের মধ্যে একটি যন্ত্রাংশ স্থাপনা টিম কাজ শুরুর কথা রয়েছে। তারাই মূলত এই ল্যাবটি বসিয়ে সম্পূর্ণ ব্যবহার উপযোগী করে দিবেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়।
এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি অভ্যন্তরীণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিটি করে তাদের কাজ পরিচালনা করবেন বলে জানা যায়।
প্রসঙ্গত: আগামীকাল (৬ মে) শনিবার থেকে করোনার চিকিৎসায় বেসরকারি মা ও শিশু হাসপাতালে ১০টি আইসিইউসহ আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু হচ্ছে। হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধাসহ মোট ২০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।
এর আগে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে ১০টি ভেন্টিলেটর সুবিধাসহ করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।








