নিউজটি শেয়ার করুন

অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সিপ্লাস ডেস্ক:  ৫০০ বছরের বিতর্কের অবসান। অযোধ্যায় বাবরি মসজিদের স্থানে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। করোনা পরিস্থিতিতে সবরকম সতর্কতা অবলম্বন করে আয়োজন করা হয় ঐতিহাসিক ভূমিপুজোর। গোটা অযোধ্যা শহর মুড়ে ফেলা হয়েছে নিরাপত্তার চাদরে।

প্রধানমন্ত্রী মোদি ছাড়াও ভূমিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্রে ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নিত্যগোপাল দাস, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ এবং উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল আনন্দিবেন প্যাটেল। এছাড়াও ছিলেন সাধু-সন্তরা। গনেশ পুজো দিয়ে শুরু হয় ভূমিপুজো।

বুধবার(৫ আগষ্ট) মাত্র ৩২ সেকেন্ডের জন্য স্থায়ী হয় পূন্য লগ্ন। ১২ টা ৪৪ মিনিট ৮ সেকেন্ড থেকে ১২ টা ৪৪ মিনিট ৪০ সেকেন্ড পর্যন্ত সেই মহরত স্থায়ী থাকবে। আগেই জানানো হয়েছিল।

ঘড়ির কাঁটা দেখে ঠিক ১২ টা ৪৪ মিনিটে শুরু হয় বিশেষ পুজো। শুভ সময় শেষ হওয়ার আগেই শেষ হয় পুজো। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী সোজা চলে যান মূল মঞ্চে।

নির্ধারিত সময়ে এদিন অযোধ্যায় আসেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে সোজা চলে যান হনুমান-গড়িতে। সেখানে আরতি করেন। এরপর সেখান থেকে চলে যান রামলালার অস্থায়ী  মন্দিরে।

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুসারে গঠিত হয় শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট। মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য তারা পাঁচ আগস্ট চূড়ান্ত দিন নির্ধারণ করে। সেই অনুযায়ী, আজ দুপুর সাড়ে ১২টায় অযোধ্যায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়।

বুধবার স্থানীয় সময় দুপুরে ৪০ কেজি ওজনের একটি রুপার ইটের গাঁথুনীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদী মন্দির নির্মাণের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন।

যে জমিতে রাম মন্দির নির্মিত হচ্ছে তা নিয়ে কয়েক দশক ধরে হিন্দু ও মুসলমানদের বিরোধ ছিল। ১৯৯২ সালে উগ্র হিন্দুত্ববাদীরা জমিটিতে থাকা ষোড়শ শতকের বাবরি মসজিদ ভেঙেও ফেলে।

জমির মালিকানা নিয়ে কয়েক দশকের বিরোধ শেষে গত বছর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট জমিটিতে রামমন্দির নির্মাণে সবুজ সংকেত দেয়। মসজিদ নির্মাণে মুসলমানদের অযোধ্যারই অন্য কোথাও জমি দিতে বলে তারা।

স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মন্দির নির্মাণে ভারতের বিভিন্ন অংশের লাখ লাখ ভক্ত সোনা-রুপার কয়েন, ইট ও বার পাঠিয়েছে। এসব মূল্যবান জিনিস পাহারায় পুলিশও মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্দিরের জন্য কয়েক বছর ধরে ভক্তদের কাছ থেকে ‘শ্রী রাম’ লেখা খোদাই করা দুই লাখ ইট সংগ্রহ করা হয়েছে, রামমন্দিরের ভিত ওই ইটগুলো দিয়েই তৈরি হবে বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।

স্থপতি চন্দ্রকান্ত সোমপুরা দ্য প্রিন্টকে বলেছেন, মন্দিরটি উত্তর ভারতের জনপ্রিয় ‘নাগারা’ শৈলীতে নির্মিত হবে। মন্দিরের যে অংশে মূল দেবতার মূর্তি থাকবে সেটা হবে অষ্টভুজাকৃতির। তিন তলা বিশিষ্ট এ মন্দিরে থাকবে ৩৬৬টি পিলার ও ৫টি গম্বুজ।

রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর ঘিরে অযোধ্যায় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে সোমবার থেকেই। মন্দিরের কাজ শেষ হতে প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় লাগবে বলে আনন্দবাজার জানিয়েছে। কেবল মন্দির নির্মাণেই খরচ পড়বে প্রায় তিনশ কোটি রূপি। মন্দিরের আশপাশের অন্যান্য স্থাপনা ও উন্নয়ন কাজে ব্যয় হবে আরও হাজার কোটি রুপি।