সিপ্লাস প্রতিবেদক: একই বাসায় থাকার সুবাদে মাধব দেবনাথ ও বিথী দেবনাথের মধ্যে গড়ে উঠেছিল প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিথী দেবনাথের অশ্লীল ভিডিও সংগ্রহ করেছিলেন মাধব দেবনাথ। সেই ভিডিও বিথী দেবনাথের স্বামীকে ফেইক আইডি থেকে পাঠান মাধব দেবনাথ। আর এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে মাধব দেবনাথকে সুযোগে পেয়ে হত্যা করেন বিথী দেবনাথ বলে জানিয়েছে পুলিশ।
৬ ডিসেম্বর রবিবার বিকালে ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার জাহানের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এসব তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মহসীন
জবানবন্দিতে বিথি দেবনাথ বলেন, ‘ঘটনার দিন (২ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক পৌঁনে ১০টার দিকে কারেন্ট চলে গেলে আমার দেবর, শশুর ও শাশুরিসহ সবাই বাসার বাইরে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর জানতে পারি টেরিবাজারে আগুন লাগছে তাই কারেন্ট চলে গেছে। আমি রুমে বিছানায় শুয়ে ছিলাম। দরজা খোলাই ছিল। একটু পর শশুর-শাশুড়ি বাসায় ফিরে আসে এবং এক পর্যায়ে হঠাৎ আমার রুমে আমি মাধব দেনাথকে দেখতে পায় এবং তাকে জিজ্ঞেস করি যে, তুমি কিভাবে ঘরে ডুকেছ? জবাবে সে বলে, সে দোকানে ছিল। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় এবং বাসার অন্যদের বাসা থেকে বের হতে দেখে সুযোগ বুঝে সে বাসায় ঢুকে। তখন আমার হাত পা কাঁপছিল। আমি মাধবকে জিজ্ঞাসা করি- কেন এসেছো এবং কিভাবে আমার স্বামীর নিকট ভিডিওটা (বিথির খোলামেলা ভিডিও) পাঠিয়েছিল। সে জানায়, আমার এলাকার সিনিয়র ভাই পবিত্র দেব ভৌমিকের আইডি থেকে ছবি নিয়ে ফেক আইডি খুলে ওই আইডি থেকে ভিডিও আমার হাজবেন্ডকে দেয়।’
‘এক পর্যায়ে মাধব আমাকে বলে, আমার কথা শুনতে হবে, নইলে ওর নিকট আমার যে ভিডিওগুলো আছে সেগুলো আমার ভাই, কাকা আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে আমাকে চরিত্রহীনা বানাবে। আমার হাজবেন্ডকে হাজারী গলিতে কোন দিনও মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে সে ব্যবস্থা করবে। তখন আমি তাকে বলি, কি করতে হবে, কি করলে আমি ভাল থাকতে পারব? তখন সে বলে, সে যা বলবে আমাকে তাই করতে হবে। ও বারবার আমার সামনে দাঁড়িয়ে আমার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে স্পর্শ করতে চাচ্ছিল। তখন আমার মাথায় আসে যে, এখান থেকে বের হয়ে যেতে পারলে সে যে কাউকে আবারও ভিডিওগুলো দেখাতে পারে। তাই আমি মন স্থির করি যে, তাকে মেরে ফেলতে হবে। তাকে মারার কৌশল হিসেবে আমি তার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দিই এবং বলি, তুমি যেভাবে চাইবে সেভাবে হবে। আমার কোন আপত্তি নাই। তাকে বলি, আমি আজকে আমার মনে যেভাবে চায় সেভাবে তোমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করব। এতে সে রাজি হয়ে যায়। আমি তাকে কৌশলে ফ্লোরে শুয়াই। আমার পরিকল্পনা অনুযায়ী একটি গামছা দিয়ে ওর মুখ বেধে ফেলি।’ -বলেন বিথি দেবনাথ।
জবানবন্দিতে আরও বলেন, ‘তাকে আমি এই বলে আশ্বস্ত করি যে, শারীরিক সম্পর্ক করার সময় তুমি যদি হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে কোন আওয়াজ করো তখন রুমের বাইরে আওয়াজ যাবে। তখন আমরা বিপদে পড়ে যাব। সে আর বাধা দেয় নাই। কথা বলতে বলতে এবং আদর করতে করতে আমি ওর পা আমার সেলাই মেশিনের নিকট থাকা এক টুকরো কামিজের কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলি। হাতও পুরোনো উড়নার টুকরো দিয়ে বেঁধে ফেলি। আমার মাথায় শুধু ওকে মারার জন্য চিন্তা ছিল। এক পর্যায়ে আমি ওর রানের উপরে বসে গলায় গামছা দিয়ে গলা চেপে ধরি। দুই মিনিট পর দেখি ওর চোখ থেকে পানি পড়তেছিল। হাত ও পা ছুড়তেছিল। তখনও আমি গলা চেপে ধরে রাখি। নাক ও মুখ থেকে ফেনা বের হতে লাগলে আমি গলা ছেড়ে দিই এবং ওর পা খাটের নিচে ঢুকাই। পরে পুরো শরীর ঠেলে ঢুকিয়ে দিই।’
সারা দেশে লকডাউন শুরু হলে মাধব কুমিল্লা চলে যায়। আমরা লালদীঘি থেকে বাসা চেঞ্জ করে টেরিবাজার চলে যাই। মাধব গ্রামে থাকা অবস্থায় আমার স্বামীর মোবাইলের ইমোতে ভিডিও কলে কথা বলতো। তার অনুরোধে তাকে আমি একটি আমার অশ্লীল ভিডিও পাঠাই। তিন মাস পর গ্রাম থেকে এসে ফের ১০-১২ দিনের জন্য আমাদের বাসায় খোরাকি হিসেবে উঠেন মাধব। আমার স্বামীর কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন মাধব। সেই টাকা নিয়ে আমার স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হয় মাধবের। তাকে আমাদের বাসায় আসতে নিষেধ করা হয়। কিন্তু তবুও মাধব আমার সঙ্গে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করে। ’ জবানবন্দিতে বলেন বিথী দেবনাথ।
প্রসঙ্গত: নিখোঁজের তিনদিন পর শনিবার বিথী দেবনাথের খাটের নিচ থেকে মাধব দেবনাথের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই উত্তম দেব নাথ বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটা মামলা দায়ের করেন।








