সিপ্লাস প্রতিবেদক: দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত চালের মজুত থাকলেও একটি সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বারবার চালের বাজার অস্থির হয়ে উঠছে। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে দেশে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে সরকারের গুদামে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চালের পরিমাণ ১০ লাখ ৯১ হাজার টন। আর গমের পরিমাণ ৩ লাখ ৬ হাজার টন। এই মজুত সন্তোষজনক বলে তারা জানিয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারা দেশে যে পরিমাণ ধান-চালের মজুত রয়েছে তা দিয়ে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত চাহিদা মিটিয়ে ৫ দশমিক ৫৫ মিলিয়ন টন চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। তাই দেশে খাদ্যঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।
দেশে ৩৫টি জেলায় চার দফা বন্যার কারণেই চালের দাম বাড়ছে এমন দাবী আড়তদার ও মিল মালিকদের।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) এক বাজারদরের প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যায়, গত এক বছরে দেশে মোটা চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি। এ সময় স্বল্প আয়ের মানুষের এই চালটির দাম বেড়েছে ২৪ দশমিক ৩২ শতাংশ। মাঝারি মানের চাল পাইজাম/লতা বেড়েছে ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। আর নাজিরশাইল/মিনিকেটের দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এ গবেষণায় দেখা গেছে, চালের উত্পাদন গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৫৪ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বোরো ও আমন মৌসুমের উদ্বৃত্ত উত্পাদন থেকে হিসাব করে, জুন পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২০ দশমিক ৩১ মিলিয়ন টন চাল ছিল। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত ১৬ দশমিক ৫০ কোটি মানুষের চাহিদা মিটানোর পরেও ৩৬-৭৮ দিনের চাল উদ্বৃত্ত থাকবে। এছাড়া, নভেম্বরের মধ্যে দেশের ফুড বাস্কেটে নতুনভাবে আউশ ও আমনের উত্পাদন যুক্ত হবে।
তবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বোরো মৌসুমে উত্পাদিত ধানের বড় অংশ মিলাররা নিজেরাও কিনে মজুত করেছেন। এছাড়া এখন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ধান নেই। তাই ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে চালের দাম বাড়ছে—এই অজুহাত ঠিক না।
দেশের অন্যান্য জায়গায় যেখানে ধানের মজুত গড়ে সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে সেখানে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।








