মোঃ নেজাম উদ্দীন, আদালত প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম পরীর পাহাড়ে জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক পূর্বে নির্মিত পাঁচটি ভবনের কোন পরিবেশ ছাড়পত্র নেই বলে জানা গেছে পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে। অন্যদিকে পরীর পাহাড়ে আইনজীবী সমিতির পাঁচটি ভবনসহ শতাধিক স্থাপনা অপসারণের সুপারিশও করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ের চাওয়া মতে প্রতিবেদনটি ঢাকায় পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পরিবেশ অধিদপ্তর এর চট্টগ্রাম মহানগর শাখার পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী।
জানা গেছে ,চট্টগ্রাম পরীর পাহাড় খ্যাত কোর্ট বিল্ডিং সংলগ্ন এলাকার টিলা শ্রেণির ভূমি নিয়ে সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে মতামত চাওয়া হলে অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে।
এর আগে পরীর পাহাড়ে নতুন স্থাপনা নির্মাণ না করতে এবং অবৈধ স্থাপনা অপসারণ নিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হলে তাতে অনুমোদন দেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন হতে মন্ত্রীপরিষদ বরাবরে এব্যাপারে একটি চিঠি পাঠানো হয় বলে জানা যায়।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম পরীর পাহাড় খ্যাত কোর্ট বিল্ডিংকে প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করতে জেলা প্রশাসনের প্রস্তাব বিবেচনা করার কথাও জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
তৎপ্রেক্ষিতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর চটগ্রামের পরীর পাহাড় পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল। পরিদর্শন শেষে দলটি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়া উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে প্রতিবেদন তৈরি করেন বলে জানা গেছে। অদ্য কয়েকদিন আগে ঢাকায় পাঠানো হয় প্রতিবেদনটি।
পরিবেশ অধিদপ্তর মহাপরিচালক ঢাকা বরাবরে পাঠানো প্রতিবেদনটিতে অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগর শাখা ছয়টি মতামত দিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিলা শ্রেণির ভূমিতে নির্মাণ কাজ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) অনুসারে ছাড়পত্র গ্রহণ অপরিহার্য হলেও তা এক্ষেত্রে গ্রহণ করা হয়নি।
এতে আরও বলা হয়, “পরীর পাহাড়ে সরকারি ভবনগুলো ছাড়া আনুমানিক শতাধিক পাকা-আধাপাকা, টিনশেড ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা আছে। এসব স্থাপনাসমূহ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপসারণ করা যেতে পারে।”
জেলা আইনজীবী সমিতির পাঁচ ভবনের অনুমোদন সিডিএ থেকে যথাযথ প্রক্রিয়া ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে দেওয়া হয়েছে কি না সেটিও পৃথক কমিটি করে যাচাই করা যেতে পারে বলে মতামত দেয় পরিবেশ অধিদপ্তর।
এতে আরও বলা হয়- “পরীর পাহাড়ে বেসরকারি ভবন ও স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে এফএআর (ফ্লোর এরিয়া রেশিও), এমজিসি (ম্যাক্সিমাম গ্রাউন্ড কভারেজ), গাড়ি পার্কিং এরিয়া, রাস্তার প্রশস্ততা, সর্বনিম্ন উন্মুক্ত স্থান, সবুজায়ন এলাকা সংরক্ষণ করা হয়নি।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরী সিপ্লাসকে বলেন,উপরের নির্দেশ মতে পরিদর্শন শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে, তিনি বলেন আইনজীবী সমিতির পূর্বে নিমিত ভবনে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন ছাড়পত্র নেওয়া হয় নাই।
আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন সিপ্লাসকে বলেন, “যখন ভবনগুলো নির্মাণ করা হয়ছিল, তখন ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি ছিল না। তাই নেওয়া হয়নি। এখন পর্যন্ত পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোন অবগতকরণ চিঠি দেওয়া হয়নি, পায়নি”।
এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান সিপ্লাসকে বলেন, “শুধু পরিবেশ ছাড়পত্র নয়, তাদের অনেক কিছুই নেই, উপরের নির্দেশনা মতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুলত: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী ভবন’ ও ‘একুশে আইনজীবী ভবন’ নামক দুইটি ১২তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এবং ৬০০টি চেম্বার বরাদ্দের জন্য প্রচার করা হলে তার বিরুদ্ধে উক্ত আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণে বাধা স্বরুপ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক সতর্কীকরণ গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেই চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশা্সনের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।
মন্ত্রীপরিষদ বরাবরে জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রেরিত চিঠির ভিত্তিতে এবং আগে থেকে সংগৃহীত গোপন রিপোর্ট এর ভিত্তিতে মন্ত্রী পরিষদের এই প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দেন বলে জানা যায়। এই প্রস্তাবনা অনুমোদন নিতে জেলা প্রশাসন মন্ত্রী পরিষদ এবং প্রধানমন্ত্রীকে ভুল বুঝানো হয়েছে দাবী করে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি কর্তৃক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল, উক্ত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে ভুল বুঝানো হয়েছে বলেও দাবী করেন তারা।
তারা বলেন আইনজীবী সমিতি কোন অন্যায় করে নাই। সরকারী অনুমোদন নিয়ে ভবন নির্মান করেছেন, এ ব্যাপারে সংঘাতে না জড়িয়ে তারা আইনী ব্যবস্থা নিবেন বলেও জানিয়েছেন আইনজীবী সমিতির নেতারা। পরে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে লিজ দলিলেল শর্ত লংঘনের অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এর পরে মন্ত্রী পরিষদের নিদের্শ মোতাবেক গত ১৮ সেপ্টেম্বর চটগ্রামের পরীর পাহাড় পরিদর্শন করে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক মোহাম্মদ নূরুল্লাহ নূরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি দল। পরিদর্শন শেষে দলটি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এএইচ এম জিয়া উদ্দিনের সঙ্গে দেখা করে প্রতিবেদন তৈরি করেন। প্রতিবেদনে ছয়টি মতামতও দেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর। কয়েকদিন আগে তা ঢাকায় পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগর শাখা । এ বিষয়টি সরেজমিনে দেখার জন্য কাল (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আসবেন বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সুত্রে।

