মোঃ নেজাম উদ্দীন,আদালত প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে পরীর পাহাড়ে আইনজীবীদের ভবন নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। আইনজীবীদের ভবন নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তুলেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। এ নিয়ে জেলা প্রশাসন ও আইনজীবী সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়। পরে পরীর পাহাড়ের স্থাপিত পাঁচটি ভবনসহ অন্য সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অনুমোদন নিয়ে এসেছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে রবিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি।
আজ শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ এইচ এম জিয়াউদ্দীন আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মুলত: এর আগে গত ২৫ আগস্ট আইনজীবী সমিতি পরীর পাহাড়ে দুইটি ভবন নির্মাণ করার জন্য বরাদ্দ পত্র প্রকাশ করলে, আইনজীবীদের নতুন ভবনে নির্মাণে বাধা স্বরুপ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় সতর্কিকরণ গণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
এর প্রেক্ষিতে আইনজীবীদের নতুন ভবন নির্মাণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ও জেলা প্রশাসন।
আইনজীবীদের ভবন নির্মাণ নিয়ে আপত্তি তুলে সম্প্রতি পরীর পাহাড়ের সরকারী ভবন ছাড়া অন্য কোন ভবনে সেবা না দিতে ওয়াসা, সিডিএ, গ্যাসসহ বিভিন্ন সংস্থাকে চিঠিও দেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন।
এরপর এ ব্যাপারে আইনজীবীদের নিয়ে এক জরুরী সভা ডাকেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি। সভা শেষে আইনজীবী সমিতির বিভিন্ন ভবন নিয়ে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিভিন্ন সংস্থাকে দেয়া ডিসির চিঠি প্রত্যাহার, ভুল তথ্য দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তী সৃষ্টি করে পত্রিকায় ডিসির দেয়া বিজ্ঞাপন প্রত্যাহার করে বিজ্ঞপ্তি প্রচার, আইনজীবীদের নতুন দুটি ভবনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, বিভিন্ন সংস্থায় ডিসির দেয়া চিঠির প্রতিবাদে প্রকৃত সত্য জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় সমিতির তরফে উল্টো চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ছিল।
এরপর গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার: ০৪.০০.০০০০.৫১২.১৬.০০২.১৮.৩৮৭ নম্বর স্মারক মূলে জারিকৃত সার্কুলার মতে, ২০২১ সালের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় পক্ষের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানা যায়।
এক গোপনীয় রিপোর্টে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কোর্ট বিল্ডিংয়ের চতুর্পার্শ্বে অর্ধশতাধিক অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ দোকানপাট, খাবার হোটেল, ছাত্রাবাস, বস্তি ও মুদি দোকান তৈরি করে ভাড়া আদায় করছে এবং এই স্থাপনাটিকে একটি অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে বলেও অভিযোগ তুলেন আইনজীবীদের বিরুদ্ধে।
পরীর পাহাড়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ৭১টি আদালত ছাড়া বাদবাকি সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই নির্দেশনায় আইনজীবীদের পাঁচটি ভবনের উচ্ছেদের কথা আছে বলে জানা যায়। অন্য কোন স্থাপনা গড়ে না তুলার জন্যও বলা হয় এই নির্দেশনায়।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বরাবরে ইস্যুকৃত গত ১৩ সেপ্টম্বরের অনুমোদিত প্রস্তাবনায়, চট্টগ্রাম নগরের কেন্দ্রস্থলে পাহাড় চূড়ায় প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং অবস্থিত। এ অংশে রয়েছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সর্বমোট ৭১টি আদালত। জেলা প্রশাসকের নামে এখানে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১১.৭২ একর জায়গা রয়েছে। সরকারি ভবনের বাইরে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি পাহাড় কেটে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। এসব স্থাপনাকে পাহাড় ধস, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী ভবন ও ‘একুশে আইনজীবী ভবন’ নামক দুইটি ১২ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এবং ৬০০টি চেম্বার বরাদ্দ দিচ্ছে। আইনজীবী সমিতির আগের থেকে নির্মিত পাঁচটি ভবন উচ্ছেদের কথা বলা হয় বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে কাল সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আইনজীবী সমিতি।
আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর আইনজীবীদের নতুন ভবন নির্মাণ ও আইনজীবীদের পাঁচটি ভবনসহ পরীর পাহাড়ে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ নিয়ে দেখভাল করার জন্য চট্টগ্রাম আদালত ভবনে আসছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।

