মোঃ নেজাম উদ্দীন, আদালত প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পূর্ব নির্মিত পাঁচটি ভবনসহ পরীর পাহাড়ের পাঁচটি স্থাপনা উচ্ছেদ ও আইনজীবীদের নতুন স্থাপনা নির্মাণে বাধার প্রস্তাবনায় অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে পরীর পাহাড়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং ৭১টি আদালত ছাড়া বাদবাকি সব স্থাপনাই উচ্ছেদ করা হবে। মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ থেকে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখার: ০৪.০০.০০০০.৫১২.১৬.০০২.১৮.৩৮৭ নম্বর স্মারক মূলে জারিকৃত সার্কুলার মতে, ২০২১ সালের আগস্ট মাসের দ্বিতীয় পক্ষের পাক্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গৃহীত প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিয়েছেন।
উল্লেখ্য গোপনীয় রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে কোর্ট বিল্ডিংয়ের চতুর্পার্শ্বে আইনজীবীগন অর্ধশতাধিক অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ দোকানপাট, খাবার হোটেল, ছাত্রাবাস, বস্তি ও মুদি দোকান তৈরি করে ভাড়া আদায় করছে এবং এই স্থানটিকে একটি অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. এনামুল হক সিপ্লাসকে বলেন, আমাদের সব ভবন সিডিএ অনুমোদিত, সরকারী নিয়ম মেনে সব ভবন নির্মান করা হয়েছে, পাহাড় ধ্বংস করে আমরা কোন ভবন নির্মান করি নাই।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন সিপ্লাসকে বলেন, আইনজীবী সমিতির কোন অবৈধ স্থাপনা নাই, আমাদের সব ভবন বৈধ অনুমোদিত, পরীর পাহাড়ে যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে সব স্থাপনা জেলা প্রশাসকের ছত্রছায়ায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে ভূল বুঝানো হয়েছে। আমরা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এই ব্যাপারে বাংলাদেশ আইনজীবী অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ পরিষদের মুখ্যপাত্র মো. ইকবাল হোসেন সিপ্লাসকে বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে এসব ভুল বুঝানো হয়েছে, সিডিএ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির অধীনে কোন অবৈধ স্থাপনা নাই। আইনজীবীদের সব ভবন সিডিএ অনুমোদিত, পাহাড় ভুমি ধ্বংস করে আইনজীবীদের কোন ভবন নির্মাণ করা হয় নাই। আইনজীবী সমিতির নিজস্ব জায়গায় বৈধভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এসব ভবন নির্মান করা হয়েছে।
তবে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের অননুমোদিত সব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, পরীর পাহাড়ে নতুন করে কোন স্থাপনা নির্মাণ না করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের যেরকম আদেশ দেওয়া হবে, সেভাবে কাজ করবো।
এর আগে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের গোপনীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম নগরের কেন্দ্রস্থলে পাহাড় চূড়ায় প্রশাসনিক প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম কোর্ট বিল্ডিং অবস্থিত। এ অংশে রয়েছে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, জেলা ও দায়রা জজ আদালতসহ সর্বমোট ৭১টি আদালত। জেলা প্রশাসকের নামে এখানে সরকারের ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত ১১.৭২ একর জায়গা রয়েছে। সরকারি ভবনের বাইরে ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জায়গায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি পাহাড় কেটে ৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বহুতল ভবন নির্মাণ করেছে। এসব স্থাপনাকে পাহাড় ধস, ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড ইত্যাদির জন্য অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ চিহ্নিত করেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ‘বঙ্গবন্ধু আইনজীবী ভবন’ ও ‘একুশে আইনজীবী ভবন’ নামক দুইটি ১২তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে এবং ৬০০টি চেম্বার বরাদ্দ দিচ্ছে’।
এই ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসান গণমাধ্যকে বলেন, পরীর পাহাড় ইট-পাথরের জঞ্জালে পরিণত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেবো।
আরো পড়তে পারেন:
- চন্দনাইশে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩
- সীতাকুণ্ডে ট্রেনের ধাক্কায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু
- প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পর চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন
- ‘এ সরকারকে ক্ষমতায় রেখে ফেরেশতা দিয়েও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না’
- পটিয়ায় পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু
- পরীমনিকে দফায় দফায় রিমান্ড: দুই বিচারকের ক্ষমা প্রার্থনা








