নিউজটি শেয়ার করুন

আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে রাতে জ্বলে না সড়কবাতি

মোঃ মহিন উদ্দিনঃ  নগরীর জিইসি মোড় থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভারের নিচে রাতের বেলায় জ্বলে না সড়কবাতি । ফলে ফ্লাইওভারটির নিচের সড়ক ও ফুটপাত রাতে অন্ধকারে ডুবে থাকে।  ফ্লাইওভারের নিচ দিয়ে চলাচল করা পথচারীরা ছিনতাইকারীদের ভয়ে আতংকিত থাকেন। চট্টগ্রাম শহরে সড়কের পাশাপাশি ফ্লাইওভারগুলো যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে এর পুরোপুরি সুফল পাচ্ছে না নগরবাসী।    

 ফ্লাইওভারগুলোতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ নজরদারি না থাকায় কার্যত এগুলো অরক্ষিত অবস্থায় থাকে। অপরাধী ও ছিনতাইকারীদের ভয়ে রাতে ফ্লাইওভারের নিচে বাস,প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল আরোহীরা যখন-তখন বিপদে পড়ার আশষ্কা প্রকাশ করেছেন। কারণ সন্ধ্যা হলেই মাদকসেবীদের আস্তানা ও  ছিনতাইকারীদের উৎপাত হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে ফ্লাইওভারের নিচের অংশ।  

এদিকে ফ্লাইওভারগুলোর নিচের জায়গা দখল হয়ে যাওয়ায় মাদকাসক্তদের আড্ডাসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে আশংকাজনক হারে। ফ্লাইওভারের নিচে চায়ের দোকান, অবৈধ পার্কিং, ফলের দোকান দিয়ে দখল করা হয়েছে ফাঁকা জায়গা। আর রাত হলেই ফ্লাইওভারের নিচে বসছে মাদকের আড্ডা। বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ষোলশহর, ২নং গেইট, জিইসি, ওয়াসা ফ্লাইওভারের নিচে গাড়ি পার্কিং, টঙ দোকান বসছে বহুদিন ধরেই।  

মাহফুজ নামে এক যুবক গত শনিবার রাত ৮ টার দিকে ১০ নং বাসে করে বহদ্দারহাটে যাচ্ছিল। ২নং গেইট সংলগ্ন  সিটি কর্পোরেশনের ডাস্টবিনের সামনে যাত্রীর জন্য বাস দাঁড়ালে অন্ধকার ফ্লাইওভারের নিচ থেকে ছু মেরে তার মোবাইল নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। গাড়ি থেকে সাথে সাথে নেমেও দেখেনি ছিনতাইকারীরা কোন দিকে চলে গেছে। ফ্লাইওভারের নীচের লাইট বন্ধ থাকায় পুরা এলাকা অন্ধকারে ঢাকা ছিল।

রিকশা চালক জাফর, বাস চালক জাবেদ, পথচারী অলকসহ অনেকেই সিপ্লাসকে বলেন, সানমার ওশান সিটি থেকে ২নং গেইট হয়ে  মুরাদপুরের আগে ফরেস্ট গেইট পর্যন্ত সন্ধ্যার পরে সব সময় ছিনতাই করে কিছু কিশোর গ্যাং। ফ্লাইওভারের নিচে বাতি না থাকায় তারা যাত্রী ও পথচারীদের হাত থেকে ব্যাগ, মোবাইল টান মেরে নিয়ে যায়। সন্ধ্যার পরে ফ্লাইওভারের অধিকাংশ লাইট জ্বলে না। কিছু কিছু লাইট মিট মিট করে জ্বলে।যেখানে লাইট জ্বলে সেখানে কোন ছিনতাই হয় না। যে অংশে লাইট জ্বলে না, অন্ধকার সেসব জায়গায়ই এসব ছিনতাই ঘটে।

ভুক্তভোগীরা জানান, ফ্লাইওভারে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনির নজরদারি কম থাকায় ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য ইতিমধ্যেই ফ্লাইওভারগুলোকে ছিনতাইয়ের নিরাপদ স্পট হিসেবে বেছে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ফ্লাইওভারগুলোয় নাগরিকদের যথাযত নিরাপত্তা বিধান করা। অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা।  

ফ্লাইওভারের লাইট বন্ধ থাকা, অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে থাকাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় নগরীর ফ্লাইওভারগুলো দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ নেতিবাচক অবস্থার অবসানে ফ্লাইওভার ও ফুট ওভারব্রিজে পর্যাপ্ত লাইটের ব্যবস্থাসহ নিরাপত্তার দিকে নজর দিতে হবে। এভাবে চলতে থাকলে জনকল্যাণে নির্মিত ফ্লাইওভারগুলো জনদুর্ভোগের কারণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন পথচারী ও নগরবাসীরা।  

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের উপ প্রধান প্রকৌশলী একেএম রিয়াজ উদ্দীন মজুমদারের সাথে এই ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, আমরা এ বিষয়ে অবগত ছিলাম না। আপনাদের মাধ্যমে অবগত হলাম।অতি শীঘ্রই আমরা এই সমস্যার সুরাহা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here