জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে বিদেশে পালিয়ে থাকা তার দুই খুনিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন।
রোববার রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ”খুনিদের কেউ কেউ লুকিয়ে আছে। আমরা ইচ্ছা পোষণ করি, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর সময়ে আমরা অন্তত যে দুইজনকে চিহ্নিত করেছি, যারা বিদেশে আছে, তাদের স্বদেশে নিয়ে আসতে চাই। এবং শাস্তি নিশ্চিত করতে চাই।”
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একদল সেনা সদস্য। এরপর সামরিক শাসক জিয়াউর রহমানের আমলে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেওয়া হয়।
১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ফেরার পর বিচারের পথ খোলে; মামলার পর বিচার শুরু হলেও বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ফের শ্লথ হয়ে যায় মামলার গতি।
আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে দণ্ডিত পাঁচজনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।
২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হয় সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মহিউদ্দিন আহমদ (ল্যান্সার), এ কে বজলুল হুদা ও এ কে এম মহিউদ্দিনের (আর্টিলারি)।
ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া ছয় আসামি খন্দকার আবদুর রশিদ, এ এম রাশেদ চৌধুরী, শরিফুল হক ডালিম, এসএইচএমবি নূর চৌধুরী, আবদুল মাজেদ ও রিসালদার মোসলেম উদ্দিন খান বিদেশে পলাতক আছে।
এর মধ্যে রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে এবং নূর চৌধুরীর কানাডায় অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার কথা সরকার আগেই জানিয়েছিল। তাদেরই আগামী বছর ফিরিয়ে এনে শাস্তি দেওয়ার কথা বলছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল নির্বাচন কমিটির আয়োজনে ‘নবমবারের মতো শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের অভিনন্দন’ শীষর্ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া দুইজনকেও ফিরিয়ে আনতে সরকার সচেষ্ট আছে বলে জানান আবদুল মোমেন।
বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘বিকল্প নাই’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এদেশে বিচার ছিল না। যারা বঙ্গবন্ধুর খুনি, রাজাকার তাদের কোনো দিন বিচার হবে এটা কেউ কল্পনা করেনি।
“তিনি বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। যারা স্বঘোষিত খুনি তাদেরকে বিচারের সম্মুখীন করেছেন। বিচার করার ফলে কোনও লোকই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, শেখ হাসিনা সেটা প্রতিষ্ঠা করেছেন।”








