সিপ্লাস প্রতিবেদক: কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউবের খনন কাজ সম্পন্ন বৃহস্পতিবার হয়েছে বলে জানিয়েছেন টানেলের প্রকল্প পরিচালক।
তিনি সিপ্লাসকে বলেন, আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ১২ টার পর এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম টিউব খননে ১৭ মাস সময় লেগেছিলো। দ্বিতীয় টিউব খননে সময় লেগেছে ১০ মাস।
প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী আরো বলেন, টানেল খুলে দেয়ার যে কথাটি বলা হচ্ছে, সেটি খুলে দেয়া নয়। মূলত স্কেভেশনের কাজ শেষ হয়েছে।
গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা (একনেক) শেষে সাংবাদিকদের বিফ্রিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছিলেন শুক্রবার মধ্যরাতে টানেলটির দ্বিতীয় চ্যানেলের মুখ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে এই টানেলের প্রথম চ্যানেলের মুখ খুলে দেওয়া হলেও আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় চ্যানেলের মুখ খুলে দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে টানেলের কাজ অনেক এগিয়ে যাবে। তারপর ঘষামাজা করে উদ্বোধনের দিন-তারিখ নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট সংস্থা।’
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু টানেলের দ্বিতীয় টিউবের বোরিং (খনন) কাজ শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ বোরিং মেশিনটি খনন শেষে শহরের প্রান্তে বের হয়ে আসবে।
প্রকল্প পরিচালক হারুনুর রশীদ চৌধুরী বলেন, খননকাজ শেষ হওয়া মানেই টানেলের নির্মাণকাজ শেষ হওয়া নয়। আরও অনেক কাজ আছে। এর মধ্যে এ প্রকল্পের ৭৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।’
দেশে প্রথমবারের মতো কোনো নদীর তলদেশে এই টানেল নির্মাণ হচ্ছে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা। চীনের সাংহাই নগরীর মতো ‘ওয়ান সিটি টু টাউন’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সরকার।
২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর এই টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে পুরোদমে কাজ শুরু হয় আরও তিন বছর পর। নদীর তলদেশে এই টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। টানেল সাইটে নদীর প্রস্থ ৭০০ মিটার এবং পানির গভীরতা ৯-১১ মিটার। টানেলের দৈর্ঘ্য ৩ হাজার ৪০০ মিটার। নগরীর পতেঙ্গা নেভাল একাডেমি সংলগ্ন এলাকায় কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে তলদেশ দিয়ে টানেল নির্মাণ তথা প্রথম টিউবের বোরিং কাজ শুরু হয়। টানেলটি হচ্ছে দুটি টিউবে চার লেনবিশিষ্ট। এছাড়া টানেলের পশ্চিম ও পূর্ব প্রান্তে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক এবং ৭২৭ মিটার ওভারব্রিজ রয়েছে। চীনের কমিউনিকেশন এবং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে। মোট নির্মাণ ব্যয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ৪ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা দিচ্ছে। বাকি ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা চীন সরকার ব্যয় করছে।








