নিউজটি শেয়ার করুন

আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর

সিপ্লাস প্রতিবেদক: আজ শুক্রবার(১৪মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৃহস্পতিবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ উঠার পর টেলিভিশন, রেডিওতে সম্প্রচার করা হচ্ছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ। তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে, শোন আসমানি তাগিদ’।

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর এসেছে খুশির বার্তা নিয়ে। সবার মনে ঈদের খুশি ও আনন্দ দোল খেলছে। পাশাপাশি চলছে পরস্পরর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও ফোনে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়।

বৃহস্পতিবার ৩০ রোজা পূর্ণ হওয়ার পর শুক্রবার (১৪ মে) উদযাপিত হবে মুসলমানদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতরের দিন শুরু হবে সকালে ঈদের নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও এবার ৩০ দিন রোজা পালন শেষে বৃহস্পতিবার (১৩ মে) পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হয়েছে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আলাদা আলাদা বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা মহামারী উদ্ভুত পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদ উদযাপন করতে দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সবাইকে ঘরে বসেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়। ঈদ উপলক্ষে সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও রাজপথের বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকেও পৃথক বাণী দিয়ে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকেও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানো হয়।

এদিকে, ঈদ উদযাপনের চিরায়ত যে ধারা দেড় হাজার বছর ধরে প্রচলিত, তা এ বছরে পুরোপুরি বিপরীত। বিশ্ব মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মতো এবারো ঈদ উদযাপন হবে সীমিত। ঈদের জামাত হবে মসজিদে। সরকারের পক্ষ থেকে জোর দিয়েই বলা হয়েছে, মহামারিকালের এই ঈদে পরস্পরের সঙ্গে হাত মেলানো ও কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে। যথাসম্ভব বাইরে না গিয়ে ঘরে থেকে পরিবারের স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে হবে পবিত্র ঈদুল ফিতর। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বাংলাদেশে সব ধর্ম এবং বর্ণের মানুষ বারাবরে এ উৎসবে সমানভাবে শামিল হন। ঈদের আনন্দ সবাই ভাগাভাগি করে উপভোগ করেন। কিন্তু, ঘরবন্দি জীবনে এবার না যাওয়া যাবে প্রতিবেশী বা আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে, না হবে তাদের আমন্ত্রণ করা।

করোনাভাইরাসের কারণে গত বছরের মতো এবারো জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রত্যেক মসজিদেই একাধিক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বেশ কিছু শর্ত দিয়ে গত ২৬ এপ্রিল ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়, এসব নির্দেশনা না মানলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেয়া হবে।

শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করতে হবে। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো যাবে না। ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের পূর্বে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে। মসজিদের প্রবেশ পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান ও পানি রাখতে হবে। প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে। ঈদের নামাজের জামাতে আগত মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না। ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে। এক কাতার অন্তর অন্তর কাতার করতে হবে। শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যে কোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিত কল্পে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। করোনাভাইরাস মহামারী থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে। খতিব, ইমাম ও মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে ঈদুল ফিতরের প্রথম ও প্রধান জামাত শুক্রবার (১৪ মে) সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদের খতিব হযরতুল আল্লামা সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ’র পেশ ইমাম মাওলানা নূর মুহাম্মদ সিদ্দিকী।

লালদীঘি শাহী জামে মসজিদে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে এবং দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে। সকাল ৮টায় সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (র.) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, চকবাজার সিটি করপোরেশন জামে মসজিদ ও মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদে (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন) ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়াও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের তত্ত্বাবধানে ১টি করে প্রধান ঈদ জামাত নিজ নিজ এলাকার মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল সাড়ে ৮টায়।

সিপ্লাসের দর্শক, পাঠক, বিজ্ঞাপন দাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।