শাহরুখ সায়েল: ভারত থেকে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সরকারের আমদানি করা আতপ চালের অধিকাংশ বস্তায় মিলেছে খুদ (ভাঙ্গা চাল)। খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছে চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগ।
দেশের চাহিদা পূরণ ও সরকারি মজুদ বাড়াতে ভারত থেকে ১০ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ টন চাল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার যার প্রথম চালান গতবছরের ২৩ ডিসেম্বর (বুধবার) চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছায়। সে ধারাবাহিকতায় গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে ভারতীয় চালবাহী জাহাজ এমভি ড্রাগন। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে এই জাহাজে ১৯ হাজার মেট্রিক টন চাল এসেছে।
প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে সরকারি পর্যায়ে আমদানি করা চালের মধ্যে এটাই প্রথম আতপ চালের চালান নিয়ে ‘এম.ভি ড্রাগন’ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়েছে। খালাস পর্যায়ে এসে ২০টি গাড়ি লোড হওয়ার পর খাদ্য পরিবহন ঠিকাদারদের নজরে আসে আমদানি করা আতপ চালের মধ্যে অধিকাংশ বস্তায় এসেছে খুদ বা ভাঙ্গা চাল। তাৎক্ষনিক বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় পরিবহন ঠিকাদারদের চাপের মুখে জেটি খাদ্য অফিসের পক্ষ থেকে খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিদ্ধ চালের তুলনায় আতপ চালের সংরক্ষণ ক্ষমতা কম থাকায় আমদানি করা চাল বিবর্ণ আকার ধারণ করে নষ্ট হয়ে যায়। তার উপর চালগুলো ভাঙ্গা চাল (খুদ) ফলে ভারত থেকে আমদানি করা আতপ চাল নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হবে সরকারকে। অন্যদিকে সিএসডি গোডাউন গুলো চাল সরবরাহ করতে ইচ্ছুক নয়। কিন্তু তাদের চাপ দেয়া হচ্ছে চাল সরবরাহ করার জন্য। এই অবস্থায় তারাও পড়েছে বিপাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহন টিকাদারদের একজন বলেন, এমন চাল আমদানি করা হয়েছে যার খুদ (ভাঙ্গা চাল) মুরগিও খেতে চাইবে না। এই চাল নিয়ে মানুষ কী করবে।
খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য পরিবহনের জন্য বন্দরে অপেক্ষারত প্রায় দুই শতাধিক ট্রাক আটকে যায়। রাতে কোন ধরণের সিদ্ধান্ত না আসায় ট্রাকগুলো বন্দরেই অবস্থান করে। পরবর্তীতে ৮ মে (শনিবার) খাদ্য অধিদপ্তর, শিপিং এজেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বন্দর জেটিতে পরিদর্শনে যায়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ খাদ্য পরিবহন ঠিকাদার কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দিন সিপ্লাসকে বলেন, ১ নম্বর চালের শুল্কায়ন হয়েছে কিন্তু যে চাল এসেছে তা খুদ। খালাস পর্যায়ে ২০টি গাড়ি লোড করার পর আমরা চেক করে দেখি যে চালের পরিবর্তে খুদ। খুদ দেখে আমরা কন্ট্রোলারকে জানাই। পরবর্তীতে তারা চেক করে এবং খুদ দেখে খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেয়।
এবিষয়ে জেটি খাদ্য অফিসের চলাচল ও সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী নিয়ন্ত্রক (সার্বিক) মোহাম্মদ ফরিদুল আলম চালের পরিবর্তে খুদ আসার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন এখন খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ আছে। আপনি এবিষয়ে আমাদের চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চাল সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দফতরে যোগাযোগ করুন।
চট্টগ্রাম খাদ্য বিভাগের চাল সংরক্ষণ নিয়ন্ত্রকের দফতরের প্রধান আবু নঈম মোহাম্মদ সফিউল আলমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিপ্লাসকে জানান, চালের পরিবর্তে খুদ এসেছে ঘটনা সত্য। কিন্তু ১৯ হাজার মেট্রিকটন পুরোটাই খুদ বিষয়টা এমন নয়। ভালো চালের সাথে কিছু খারাপ চাল যেকোন ভাবে চলে এসেছে। হয়তো ভুল করে এসেছে। আমরা জানার সাথে সাথে খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ রেখেছি। আজ (৮ মে) সকালে আমি সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে পরিদর্শনে গিয়েছি এবং কিছু বস্তায় খুদ পেয়েছি। তাই চাল খালাস বন্ধ রেখে মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানিয়েছি পাশাপাশি সচিব স্যার ও ডিজি স্যারকেও জানিয়েছি। তারা এবিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। সিদ্ধান্ত আসার আগ পর্যন্ত খালাস প্রক্রিয়া বন্ধ থাকবে।








