সিপ্লাস ডেস্ক: আধুনিকায়ন করে পাট-চিনিকল চালুর দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে চট্টগ্রামের পাটকল – বস্ত্রকল শ্রমিকরা ।
‘দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা বন্ধ কর, পাটকল – চিনিকল চালু কর’ ও ‘রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল – চিনিকল আধুনিকায়ন কর, চালু কর, পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ কর’ লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে আমিন জুট মিলস, জলিল টেক্সটাইল মিলস্ , হাফিজ জুট মিল, এশিয়াটিক কটন মিলস এর শ্রমিকরা বক্তৃতা ও শ্লোগানের মধ্যে দিয়ে পাট-সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কর্মসুচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৬ ই মার্চ) সকাল ১১ -১২ টা পর্যন্ত এক যোগে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পাট কলের শ্রমিকরা এই কর্মসুচি পালন করেন। কর্মসূচীতে বক্তারা পাটকল গুলো খুলে দেওয়ার দাবির পাশিপাশি , সরকারি ও ব্যাক্তিমালিকানাধীন বন্ধকৃত পাট , সুতা ও বস্ত্রকল আধুনিকায়ন করে চালু , শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ , রাষ্ট্রায়াত্ত খাতের সঙ্গে সংগতি রেখে ব্যাক্তিমালিকানাধীন পাটকল শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরী ঘোষনা, অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা ও শ্রম আইন সংশোধন সহ বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ এর ৫ দফা দাবিও তুলে ধরেন ।

এ সকল কর্মসূচীতে পাটকল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির খবরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, অতীতে যে ৩৯টি পাটকল বেসরকারি করণ করা হয়েছিল তার ২৯টিই বন্ধ। এসব পাটকলের রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি লুটপাট করা হয়েছে। বেসরকারিখাতে চালু থাকা পাটকলে শ্রম আইন মানা হয় না। এমনকি শ্রমিক কর্মচারীরা বাঁচার মতো মজুরি পান না।
নতুন করে বেসরকারিকরণের অর্থ হলো রাষ্ট্রের সম্পত্তি পছন্দমত কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া। এই লুটপাট দেশবাসী সহ্য করবে না। সভা থেকে আরো বলা হয়, বিভিন্ন সরকারের সময় মাথাভারী প্রশাসন, ‘দূর্নীতি ও ভুলনীতির’ কারণে এসব কলকারখানা যথাযথ উৎপাদন করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে নি। এর সঙ্গে জড়িতরা এখনো চাকুরিতে বহাল আছে। এসব কলকারখানায় ‘দুর্নীতি ও ভুলনীতির’ সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিও করা হয়।
মঙ্গলবার (১৬ ই মার্চ) জলিল টেক্সটাইল মিলস্ এর কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম পাট সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক শ্রমিক নেতা মছিউদ্দৌলা, মোঃ হাশেম, মোঃ ছিদ্দিক,আবুল কাশেম প্রমুখ।
হাফিজ জুট মিলের এ বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম পাট সুতা বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ন সম্পাদক, মো : দিদারুল আলম চৌধুরী, হাফিজ জুট মিলস্ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন এর সভাপতি নুর মোহাম্মদ মিলন প্রমুখ ।
আমিন জুট মিলস্ এ বক্তব্য রাখেন, শ্রমিক নেতা মো: শামসুল আলম, মো: শফিকুল ইসলাম প্রমুখ ।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সদস্য কমরেড মোক্তার আহমদ ও বাংলাদেশ যুব মৈত্রী চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খোকন মিয়া ।
এশিয়াটিক কটন মিলে বক্তব্য রাখেন সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ , শ্রমিক নেতা মো: আলী ও যদু মোহন দাশ প্রমুখ ।








