সাগরপথে ইয়াবা ব্যবসা করে আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া এলাকার আবদুল হামিদের পুত্র মোহাম্মদ হাসান প্রঃ হাসান মাঝি বিরুদ্ধে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার গ্রামের বাড়িতে দুদক জেলা সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর তদন্ত টিম এ নোটিশ প্রদান করেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলমের স্বাক্ষরিত নোটিশ সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ সনের ৫নং আইনের ২৬ উপ-ধারায় ১ দ্বারা অর্পিত ক্ষমতাবলে হাসান মাঝির নিজের, স্ত্রী ও নির্ভরশীল ব্যক্তিবগের্রে স্ব-নামে, বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর অস্থাবর সম্পদ-সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও অর্জনের বিস্তারিত বিবরণীর আদেশ দেন।
নোটিশ প্রাপ্তির ৭ কার্য দিবসের মধ্যে কমিশনের ছকে সম্পদ বিবরণের বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় প্রদানের নির্দেশ দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা মিথ্যা বিবরণী দাখিল করলে ২৬ এর উপ ধারা ২ মোতাবেক বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসান মাঝি আনোয়ারার অন্যতম প্রধান ইয়াবা ব্যবসায়ী। টেকনাফ থেকে নৌকায় করে ইয়াবার চালান এনে আনোয়ারার বিভিন্ন উপকূলে ছত্তার মাঝির ঘাট, উঠান মাঝির ঘাট, ঘাটকুল, দোভাষী বাজার, পারকিসহ বিভিন্ন স্থানে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা খালাস করে সেখান থেকে ইয়াবার চালান পৌঁছে দেওয়া হতো চট্টগ্রাম শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। ইয়াবা সরবরাহের জন্য হাসান মাঝির ছিল বিশাল একটি সিন্ডিকেট। তবে বর্তমানে আটকের ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন হাসান মাঝি।
স্থানীয়রা আরো জানায়, রায়পুর ইউনিয়নের পরুয়াপাড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ ও সমুদ্র সংলগ্ন হাসান মাঝিদের বাড়ি হওয়ায় তাদের পারিবারিক একমাত্র আয়ের উৎস নৌকা যোগে নদীতে মাছ ধরা। কয়েক বছর আগেও মানুষের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় দৈনিক বেতনে সাধারণ মাঝির কাজ করতেন হাসান মাঝি। কিন্তু ২০১১ সাল থেকে তার কর্মকাণ্ড বদলে যেতে থাকে। গ্রামের বাড়িতে পৈত্রিক সম্পত্তি ভিটায় রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি, ইঞ্জিনচালিত মাছ ধরার একাধিক নৌকাসহ বিভিন্ন স্থানে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়েছেন জানিয়েছে স্থানীয়রা। গত বছর ঈদুল ফিতরের পরের দিন আনোয়ারা থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তার ছোট ভাই মোহাম্মদ সাবেরকে আটক করে। সে এখন জামিনে রয়েছে। হাসান মাঝির ছোট ভাই মোহাম্মদ সাবের বলেন, আমার বড় ভাই দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইয়ে আছে। এলাকার কিছু লোক আমাদের পিছনে লেগেছে। ষড়যন্ত্র করছে আমাদের বিরুদ্ধে। আমাদের একটি বাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। দুদক চিঠি দিয়েছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা চিঠির জবাব দিবো।
হাসান মাঝির বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা আছে কিনা জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ দুলাল মাহমুদ বলেন, হাসান মাঝি একজন তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী। সে আটকের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তবে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে থানায় মাদকের মামলা রয়েছে।








