আনোয়ারা প্রতিনিধি : আনোয়ারায় রাতের অন্ধকারে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বসতঘরে ভাঙচুর চালিয়ে স্বর্ণংকার ও নগদ টাকা লুটের ঘটনা ঘটছে।
মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক তিনটার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের মালঘর বাজার এলাকার কাজী বাড়ির মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
এঘটনায় মঙ্গলবার থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখ্য ও অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজনকে আসামী করে মামলা করছেন বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের পুত্র মোহাম্মদ মোরশেদ।
সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গভীর রাতের গুলির শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে যান স্থানীয়রা। মসজিদের মাইকেও ঘোষণা দেওয়া হয় এলাকায় ডাকাতরা হামলা করেছে। এলাকার সবাই বাহিরে বের হয়ে দেখে শতাধিক হামলাকারীরা হাতে দেশীয় অস্ত্রসহ রাম দা, কিরিচ নিয়ে মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনের বাড়ির গেইট ও বিভিন্ন স্থানের পাথর নিক্ষেপ করছে। প্রতিবেশিরা ভয়ে কেউ আশপাশেও যাননি। প্রায় ঘন্টা কয়েক পর ভাঙচুর ও প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে, মিছিল সহকারে চলে যায়। দ্রুত পুলিশ এসে পাল্টা গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পার্শ্ববর্তী কয়েকজন প্রতিবেশীর সাথে চলাচলের রাস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। বিভিন্ন সময়ে তারাই ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজে আসছিলো। তারাই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিতভাবে রাতের অন্ধকারে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও জানা যায়।
মোহাম্মদ মোরশেদ জানান, আমরা রাতে খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছি। রাত আনুমানিক ৩ টার সময় শুনতে পাই বাড়িতে গুলি করছে। তখন আমি বেরিয়ে আসি ঘর থেকে। আমি কে-কে জিজ্ঞাস করলে এরা বলে, তুই মোরশেদ নাকি, এই একে গুলি কর বললে, আমি দ্রুত পালিয়ে যায়। তখন আম্মা আমরা বাইয়ে আছি তাই দরজা খুলে দেয়। আর এসময়ে তারা ঘরে ঢুকে ১৬ ভরি স্বর্ণংকার ও নগদ বিদেশ থেকে পাঠানো সঞ্চিত ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মত নিয়ে গেছে।
তিনি আরো জানান, আমি আর কোনো উপায় না পেয়ে ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করলে কিছুক্ষণ পর থানা পুলিশ এসে পাল্টা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগে আমাদের ঘরের বিদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সিসি ক্যামরাও গুলো ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। তারপর গেইটের পিলার ভেঙে এবং গেইট পুকুরে পেলে দেয় তারা।
কামাল উদ্দিনের স্ত্রী মফিজা বেগম (৫৫) বলেন, এরা বাতাশের গতিতে গুলি করছিলো। আমার ছেলেরা সবাই বাইরে, তাই আমি ঘরের দরজা খুলে দিই। আর দরজা খুলতেই তারা আমার কপালে অস্ত্র ঠেকালে আমি দ্রুত ভয়ে ছাদে উঠে যায়। এরপর এসে দেখি ঘরের মধ্যে কিছুই নেই। সবই লুট করে নিয়ে গেছে।
আনোয়ারা থানার অফিসার ইনচার্জ এস.এম দিদারুল ইসলাম সিকদার বলেন, রাস্তার গেইট ও পিলারের বিষয়ে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তাদের মামলা রয়েছে আদালতে। এরই জের ধরে রাতে এ ঘটনা ঘটিয়েছ। সেখানে গুলাগুলির ঘটনাও ঘটে। খরব পেয়ে আমরা দ্রুত গিয়ে ৬ রাউন্ড গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








