নিউজটি শেয়ার করুন

আনোয়ারায় মাদকসেবী ছেলের বিরুদ্ধে মা-বাবার সংবাদ সম্মেলন

আনোয়ারা উপজেলার বরুমছড়া ৭নং ওয়ার্ডে মাদকসেবী ছেলে মোহাম্মদ সোলাইমানের বিরুদ্ধে মা-বাবাকে মারধর ও গৃহবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলার একটি কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের নিরাপত্তা এবং ছেলে সোলাইমানের শাস্তি দাবি করেছেন মা-বাবা। বাবা মনির আহমদ (৭৮) ও মা জাহানা বেগম (৬৫), ভাবী রুমা আকতার (২৫)। অভিযোগ সর্বশেষ রোববার (১ ডিসেম্বর) রাতে মাদকসেবী ছেলে তাদেরকে গলাটিপে হত্যাচেষ্টা ও আঘাতে রক্তাক্ত জখম করে গৃহবন্দি করে রাখা হয়েছে মা ও ভাবীকে। প্রাণ বাঁচাতে বৃদ্ধ বাবা চট্টগ্রামের হালিশহরে ১৩ দিন ধরে আশ্রয় নেয়।

এ সময়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নির্যাতিত বৃদ্ধ পিতা মনির আহমদ ও মা জাহানা বেগম বলেন, নিজের জীবন ও মালের চরম সংকট মুহূর্ত উপস্থিত হয় তখনি বুঝতে পারে তার জীবন সম্পন্ন সংকটময়, যেকোন মুহূর্তে আমাদের জীবনের প্রদীপ অনাকাক্ষিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিভে যেতে পারে, তাও নিজের ছেলের অপকর্মকান্ডে। আমাদের তিন ছেলের মধ্যে মোহাম্মদ লোকমান ও মোহাম্মদ ওসমান প্রবাসে থাকে। তারাই আমাদের এই যাবৎ বরণ পোষণ করে আসতেছে। মোহাম্মদ সোলাইমান সবার ছোট সে গত ২০১৭ সালে বিদেশ থেকে দেশে এসে আমার ২ ছেলে ও ৩ মেয়ের সকল সম্পত্তি তার নামে লিখে দেওয়ার প্রস্তাব দেয় ও তার নিজ অর্থে নির্মিত ঘর ৩০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে কিনে নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। এতে আমরা রাজি না হওয়াতে বিভিন্ন সময় শারিরিক নির্যাতন করে আসছে। আমাদের বরণ পোষণকারী প্রবাসী দুই ছেলের স্ত্রী সন্তানদেরও আমাদের সাথে মেরে পেলার হুমকি দেয়। আমাদেরকে কেউ সাহায্য করতে আসলে তাদেরও প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। সহযোগিতা করতে আমার স্ত্রী ভাই আমির হোসেন আমু, মোহাম্মদ আলী, নুরুল আলম টিপুকে হত্যা চেষ্টা, হুমকিসহ বিভিন্ন মামলা দিয়ে ফাঁসানো চেষ্টা করে এবং টিপুর কাছে ২ লক্ষ টাকা পাবে বলে আদায় করে। আমার স্ত্রী জাহানা বেগমকে মাথার চুল ধরে টানা হেছড়া করে বাড়ির সামনে মদনা মসজিদের সামনে এনে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। যার প্রেক্ষিতে মোহাম্মদ আলী তার পুত্র টিপুর নিরাপত্তা চেয়ে আনোয়ারা থানায় মোহাম্মদ সোলাইমানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করে। সর্বশেষ গত রোববার (পহেলা ডিসেম্বর) দেশে ফিরে আমাকে আমার স্ত্রী, পুত্র বধু ও তাদের সন্তানসহ হত্যার চেষ্টা করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে ঘরের মধ্যে গৃহবন্দি করে রাখে। ঘরের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে যাতে আমরা কারো সাথে যোগাযোগ করতে না পারি। তার অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে আনোয়ারা থানায় অভিযোগ করতে গিলে কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এএসআই পলাশ মজুমদারের কাছে অতীত ও বর্তমানের সকল নির্যাতনের কথা বললে তিনি আমাকে একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলেন।

এদিকে আমার ছেলে সোলাইমান আমাকে ফোন করে থানার আসার কারণ জানতে চাই এবং বলে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগ করলে আমাদের সবাইকে জানে শেষ করে দিবে। সে ভয়ে আমি থানা থেকে অভিযোগ না করে চট্টগ্রামের হালিশহরের পালিয়ে যায়। এবিষয়ে আনোয়ারা থানার এএসআই পলাশ মজুমদার বলেন, এ ঘটনার একটি অভিযোগ করার জন্য একজন বৃদ্ধ লোক এসেছিলেন। উনাকে একটি লিখিত অভিযোগ করতে বলি। পরে তিনি অভিযোগ না করে চলে গেছেন।

প্রবাসী মোহাম্মদ ওসমানের স্ত্রী রুমা আকতার বলেন, দীর্ঘ ১৩ দিন ধরে শাশুরি ও আমার ছেলে মেয়েদেরসহ আমাদেরকে গৃহবন্দি করে রেখেছে। আমাদের উপর বিভিন্ন সময় তার ভারাটে সন্ত্রাসী ও সে শারীরিক নির্যাতন করে। প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি ও হামলা মামলা ভয়ভীতি দেখায়। আজ অনেক কষ্ট করে পালিয়ে বের হয়েছি। আপনাদের সহযোগিতা পাব বলে। আমরা বাঁচতে চাই, আমাদের বাঁচান। হইতো জীবনের শেষ বেলায় আপনারাই একমাত্র ভরসা। এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।