রেজাউল করিম সাজ্জাদ, আনোয়ারা প্রতিনিধি : সড়কের বরাদ্ধ কোটি টাকা ছুঁই ছুঁই। প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা। কিন্তু সেই সড়ক নির্মাণের পর ৯০ দিনও টিকেনি। ছোটবড় অসংখ্য গর্তসৃষ্টি হয়ে চলাচলে দুর্ভোগের শেষ নেই।
রবিবার (২৯ আগষ্ট) সকালে বটতলী-বরুমচড়া হাজারী সড়কে গিয়ে এই চিত্র চোখে পড়ে। নিম্নমানের কাজ হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে কার্পেটিং উঠে গিয়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সড়কের এমন বেহাল দশার কথা জানেননা সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপজেলা এলজিইডি অফিস। উপজেলা প্রকৌশলী তসলিমা জাহানকে জানানো হলে তিনি প্রথমে সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকারই করতে চাননি। পরে তিনি সড়কটি পরিদর্শণে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন বলে জানিয়েছেন।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার ব্যস্ততম বটতলী রুস্তমহাট থেকে বরুমচড়ায় যাওয়ার প্রায় ছয় কিলোমিটারের হাজারী সড়ক। দীর্ঘদিন অবহেলিত থাকার পর দেড় বছর আগে সড়কটির মেরামত কাজের বরাদ্দ দেয়া হয়। ৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সড়ক মেরামতের কাজটি পান ঠিকাদার জসীম উদ্দিন।
কিন্তু নানান অজুহাতে ঠিকাদার কাজটি সম্পন্ন করেন বরাদ্দ দেওয়ার প্রায় এক বছর পর। গত রোজার ঈদের পর সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ করা হয় এবং দেড়মাস আগে সড়কের কিছু অংশ ঢালাই কাজ করা হয়। মেরামত কাজে অনিয়ম এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় সড়কটি তিনমাসও টিকেনি। বিভিন্ন স্থানে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত হয়ে গেছে। এসব গর্তের কারণে চলাচলে আবারও ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. এনাম বলেন, এত নিম্নমানের কাজ করা হয়েছে যা বলার মত নয়। এজন্য তিনমাসও যায়নি। সড়কের কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে।
সিএনজি চালক নবী হোসেন বলেন, আগে দীর্ঘদিন সড়কটি মেরামত না হওয়ায় গাড়ী চালাতে পারতামনা। এখন মেরামত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে আগের সেই অবস্থা হয়ে গেছে।
ঠিকাদার জসিম উদ্দিন বলেন, বৃষ্টির কারণে সড়কের এমন অবস্থা হয়েছে। আমি বিষয়টি দেখেছি। বৃষ্টি কমলে সড়কটি আবারো মেরামত করে দেয়া হবে।
উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যাপক এম এ মান্নান চৌধুরী বলেন, ঠিকাদার জসিমের কারণে আমাদের দলের বদনাম হচ্ছে। সারা আনোয়ারায় বিভিন্ন সড়কের ঠিকাদারি কাজ নিয়ে ঠিকমত কাজ করেনা। বছরের পর বছর ফেলে রাখে। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে নেতাকর্মীদের কাছে আমাদের জবাবদীহি করতে হয়।








