সিপ্লাস ডেস্কঃ মোল্লা আবদুল ঘানি বরাদর। বর্তমানে আফগানিস্তানে তালিবানের অন্যতম প্রধান তিনি।
১৯৯৪ সালে তালিবান আন্দোলনের অন্যতম নেতা এই মোল্লা আবদুল ঘানি বরাদর। ২০০১ সালে আমেরিকা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর, আমেরিকা বিরোধী যে প্রতিরোধ শুরু হয়, তার চালকের আসনে ছিলেন গনি। ২০১০ সালে আমেরিকা এবং পাকিস্তানের যৌথ অভিযানে করাচিতে ধরা পড়েন তিনি। তার পর থেকে সে ভাবে জনসমক্ষে দেখা যায়নি তাঁকে। কিন্তু ২০১২ সালে আফগান সরকার যে সমস্ত তালেবান বন্দিকে মুক্তি নিয়ে উদ্যোগী হয়, তাতে ঘানির নাম একেবারে উপরের দিকে উঠে আসে।
সে বছর ২১ সেপ্টেম্বর গনিকে মুক্তি দেয় পাকিস্তান,যদিও তালেবান তা স্বীকার করে ২০১৮ সালে। তার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে শান্তিস্থাপন নিয়ে আলোচনা শুরু করতে উদ্যোগী হয় তৎকালীন আফগান সরকার। আমেরিকা দাবি করে, তাদের অনুরোধেই ঘানিকে ছেড়েছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানে গ্রেফতার হওয়ার সময় তালেবানের ধর্মীয় বিভাগের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ছিলেন ঘানি। প্রাক্তন তালেবান প্রধান মোল্লা ওমরের ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত লোক বলে পরিচিত ছিলেন। এমনকি মোল্লা ওমরের বোনকে বিয়েও করেন ঘানি। তাই তাঁর সঙ্গে সমঝোতা করা গেলে আমেরিকা এবং ন্যাটোবাহিনী সরে গেলে দেশে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে বলে আশাবাদী ছিল আফগান সরকার। কারণ ঘানি নিজেও একাধিকবার আমেরিকা এবং আফগান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। পাকিস্তান থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কাতারের দোহায় প্রথমে তালিবানের কূটনৈতিক দফতরের দায়িত্বও পান ঘানি।
শনিবার রাতে উত্তরের মাজার-ই-শরিফের পতনের পর থেকেই কাবুলের পতনের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছিল। রবিবার সকালে জালালাবাদ দখল করেন তালেবান যোদ্ধারা। তার পর রাজধানী কাবুলেও দলে দলে প্রবেশ করতে শুরু করেন তাঁরা। যদিও দলীয় নেতৃত্বের নির্দেশে কাবুলে ঢোকার মুখেই থমকে যেতে হয় তাঁদের। এর পর সরাসরি আব্দুল ঘানি এবং আমেরিকার কূটনীতিবিদদের সঙ্গে সমঝোতা চান বলে দাবি করেন তালেবান নেতৃত্ব। জানিয়ে দেন, গায়ের জোরে কাবুল দখল করতে চান না তাঁরা। শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতার হস্তান্তর চান।
সকাল হতেই বিনাযুদ্ধে ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়ে গেল আফগানিস্তানে। তালেবান নেতাদের সঙ্গে মাত্র ৪৫ মিনিট বৈঠকের পরেই প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দিলেন আশরাফ গনি।
তালেবানের অস্থায়ী সরকারের কাছে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল সাত্তার মিরজাকওয়াল।ওই বৈঠক চলার সময়ই খবর আসে আব্দুল ঘানি বারাদারই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশ সময় রোববার বিকেল ৫টার দিকে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের ক্ষমতা আবারও তালেবানদের হাতে চলে যাওয়ার পর রাজধানী কাবুল থেকে সরে যেতে শুরু করেছেন অধিবাসীরা।

