নিউজটি শেয়ার করুন

আফগানিস্তানে আত্মসমর্পণ করা আইএস সদস্যদের মধ্যে ‘কেরালার এক নারী’

নিরাপত্তা সংস্থার জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যম হিন্দুকে আত্মসমর্পণ করা ওই নারীর নাম সোনিয়া সেবাস্তিয়ান ওরফে আয়িশা বলে জানিয়েছেন।

কেরালার কাসারগডের বাসিন্দা সোনিয়ার বয়স ৩২ বছর; ২০১৬ সালে ইরান থেকে পায়ে হেঁটে আফগানিস্তানে ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে কেরালার ২১ জনের যে দলটি দেশ ছেড়েছিল, তিনি তাদের একজন বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবানের দলছুট নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত আফগানিস্তানে আইএসের এ অংশটি ২০১৫ সাল থেকে তাদের অস্তিত্বের জানান দেওয়া শুরু করে।

“বিভিন্ন ডোমেইনে প্রকাশিত আত্মসমর্পণ করা আইএস যোদ্ধাদের কিছু ছবি বিশ্লেষণ করেছি আমরা। সেখানে একজনকে সোনিয়া সেবাস্তিয়ান মনে হচ্ছে। ওই ছবিতে তাকে একটি শিশুর পাশে বসে থাকতে দেখা গেছে,” বলেছেন নিরাপত্তা সংস্থার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা।

আফগানিস্তানের কাছ থেকে ভারত এ প্রসঙ্গে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানতে পারেনি, বলেছেন তিনি।

২০১৭ সালে ভারতের তদন্ত সংস্থা এনআইএ সন্দেহভাজন দুইজনের নামে একটি অভিযোগপত্র দিয়েছিল, তাতে সোনিয়া ২০১৬ সালের ৩১ মে স্বামী আবদুল রশিদ আবদুল্লার সঙ্গে মুম্বাই বিমানবন্দর হয়ে ভারত ছেড়েছিলেন বলে দাবি করা হয়।

“২০১৫ সালের জুলাইয়ে রমজান মাসের শেষভাগে ওই দম্পতি পাদান্না ও কাসারগডে আইএস ও জিহাদের সমর্থনে গোপনে পাঠ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সোনিয়ার বিরুদ্ধে এনআইএ এখনও কোনো অভিযোগপত্র দেয়নি। অভিযুক্ত আবদুল রশিদ, তার স্ত্রী এবং মামলার অন্য অভিযুক্তরা আফগানিস্তানের নানগারহারে আইএস নিয়ন্ত্রিত এলাকায় আছেন,” অভিযোগপত্রে এমনটাই বলা হয়েছিল।

কেরালার বাসিন্দারা ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে মোবাইলে পাওয়া কিছু বার্তায় আফগানিস্তানে ড্রোন হামলায় তাদের আত্মীয় স্বজনের নিহত হওয়ার খবর পেয়েছিল বলেও হিন্দু জানিয়েছেন। যার নামে ওই বার্তাগুলো এসেছিল, সেই আশফাক মাজিদও ২০১৬ সালে ২১ জনের ওই দলের সঙ্গেই আফগানিস্তান গিয়েছিলেন। মোবাইলে পাঠানো ওই বার্তাগুলো সঠিক কিনা, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তা নিশ্চিত হতে পারেনি।

চলতি মাসে আফগানিস্তানের নানগারহার প্রদেশের গভর্নর শাহ মাহমুদ মাইকেলের বরাত দিয়ে একটি ওয়েবসাইট আত্মসমর্পণ করাদের মধ্যে ২২৫ জন পুরুষ, ১৯০ জন নারী ও ২০০ শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে। আত্মসমর্পণকারী এ আইএস যোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা বেশিরভাগই পাকিস্তানের নাগরিক, বলেছেন শাহ মাহমুদ।