সিপ্লাস ডেস্কঃ আফগানিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই ও একসময়ে দেশটির শান্তিপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আবদুল্লাহর সঙ্গে কাবুলে আলোচনায় বসেছেন তালেবান নেতা আমির খান মুত্তাকি। বার্তা সংস্থা এপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে আল–জাজিরা। এর মধ্যে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এক সময় দেশটির সমঝোতা বিষয়ক পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সূত্র বলেছেন, আফগানিস্তানে হতে যাচ্ছে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার। তালেবান নন, এমন রাজনৈতিক নেতাদেরকেও এই সরকারে ঠাঁই দেয়া হবে। তালেবানরা দেশ দখল করেছে দু’দিন হলো। কিন্তু এখনও সরকার গঠন না হওয়ার নেপথ্য কারণ হলো এটা।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, তালেবানের সর্বশেষ শাসনকালে মুত্তাকি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট প্যালেস থেকে পালানোর আগপর্যন্ত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বজায় ছিল মুত্তাকির। দায়িত্বশীল ওই কর্মকর্তা জানান, তালেবান নন—এমন নেতারা সরকারে আসতে পারেন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তালেবানের মুখপাত্র সুহাইল শাহীন বলেছেন, ‘এটি সমন্বিত আফগান সরকার হবে।’
আলোচনার বিষয়ে জানেন—এমন কয়েকজন কর্মকর্তা বলছেন, কিছু কিছু আলোচনা গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত চলেছে। গনি দেশ ছেড়ে পালানোর পরও এ রকম আলোচনা চলছে। তিনি তাদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন। এসব আলোচনা সম্পর্কে জানেন এমন আফগানরা বলছেন, গত রাতেও বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। আশরাফ গণি দেশ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে, তালেবান তাদের সরকারে নারীদের যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে। বাহিনীটির সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য ইনামুল্লাহ সামানগানি এ আহ্বান জানান। তালেবান দেশটি দখল করে নেওয়ার পর শাসনব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে প্রথম মন্তব্য এল। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল–জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়।
সামানগানি বলেন, ইসলামিক আমিরাত নারীরা ক্ষতির শিকার হোক, তা চায় না। শরিয়াহ আইন অনুযায়ী সরকারে তাঁদের উপস্থিতি থাকা উচিত। তিনি বলেন, এখনো সরকারের কাঠামো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়, কিন্তু অভিজ্ঞতার আলোকে মনে হচ্ছে, এখানে পুরোপুরি ইসলামিক নেতৃত্ব থাকবে। এতে সব পক্ষেরই যোগ দেওয়া উচিত।খবর আল–জাজিরার।

