রাউজান প্রতিনিধি: প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র ও মৎস্য অভয়ারণ্য হালদা নদীতে ১৭দিনের ব্যবধানে আবারও বিপন্ন প্রজাতির একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এই নিয়ে গত আড়াই বছরে ২৫টি মৃত ডলফিন উদ্ধার হয়েছে।
আজ ২৪ মে, রবিবার সকাল ১২ টার দিকে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম এলাকা থেকে এই ডলফিনটি উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে মৎস্য শিকারিদের অবৈধ পন্থায় পাতানো জালে আটকে ডলফিনটির মৃত্যু হয়েছে।
এই বিষয় উরকিরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আব্দুল জব্বার সোহেল বলেন, সকাল ১১ টার দিকে হালদা নদীতে একটি মৃত ডলফিন ভাসতে দেখে স্থানীয়রা আমাকে খবর দিতে আমি বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে অবহিত করি। হালদা স্বেচ্ছাসেবীদের সহযোগিতায় মৃত ডলফিনটি নদীর তীরে নিয়ে আসা হয়। ধারণা করা হচ্ছে তিন-চারদিন পূর্বে ডলফিনটি মারা গেছে। মৃত ডলফিনটি কর্ণফুলী নদীর ঐদিক হতে জোয়ারের পানিতে ভেসে এসেছে। ইউএনও ঘটনা স্থলে এসে স্থানীয়দের সহযোগীতায় ডলফিনটি মাটি চাপা দেন। এই বিষয়ে কথা বলতে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জোনায়েদ কবির সোহাগের সাথে মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ পাওয়া যায় নি।
এই বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, বাহ্যিক লক্ষন দেখে মনে হচ্ছে,হালদা হতে উদ্ধারকৃত ডলফিনটি জেলেদের জালে আটকিয়ে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যায়। ডলফিনটি ৮ ফুট ১ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের এবং ওজন আনুমানিক ৭০-৮০ কেজি। এটি এযাবত কালের সবচেয়ে বড় সাইজের ডলফিন।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে, শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে একই এলাকার ক্ষতবিক্ষত একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০১৭ সালের সেপ্টম্বর হতে ২০২০ সালের ৮ মে পর্যন্ত ২৪টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছিল ঐসকল ডলফিনের মৃত্যুর কারণ ছিল ইঞ্জিন চালিত বোট, ড্রেজারের পাকার আঘাতজনিত নদী দূষণ ও জেলে কর্তৃক হত্যা।








