সিপ্লাস ডেস্ক: অবিলম্বে বঞ্চিত পাওনা পরিশোধ করতে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রামের আমিন জুট মিলের শ্রমিকরা।
মঙ্গলবার(১২অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে বন্ধ হয়ে যাওয়া আমিন জুট মিল সিবিএ, নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে দেড়শ স্থায়ী এবং বারশ’র মতো অস্থায়ী শ্রমিকের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে আমিন জুট মিলের বঞ্চিত শ্রমিক মো. সিরাজ বলেন, সরকার কোন নোটিশ ছাড়াই ২০২০ সালের জুলাই মাসে আমিন জুট মিলসহ সারদেশের ২৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল বন্ধ করে দেয়। ওইসময় সকল শ্রমিকদের পাওনা পরিষদ করা হবে মর্মে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলেও সকল শ্রমিক তাদের পাওনা পায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু করলেও ১৫০জন স্থায়ী ও ১২০০ এর মতো অস্থায়ী শ্রমিক তাদের বকেয়া পাওনা পান নি।
কারণ হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০০৭ সালে আমিন জুট মিলের কলোনিতে কর্তৃপক্ষ আবেদন ছাড়া অস্থায়ীভাবে ঘর তুলে থাকতে দেয় শ্রমিকদের। এ বিষয়টি সামনে রেখে আমিন জুট মিল বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণার পর তেমনসহ স্থায়ী ১৫০ ও অস্থায়ী ১২০০ জনের পাওনা পরিশোধ বন্ধ রাখা হয়েছে।
মো. সিরাজ বলেন, অন্য অনেকের পাওনা পরিশোধ করা হলেও এদের বকেয়া পাওনা রহস্যজনক কারণে আটকে আছে। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওই এলাকার সংসদ সদস্যও আমাদের বকেয়া পরিশোধের জন্য সুপারিশ করলেও তা কোন কাজে আসে নি। মিল বন্ধের কারণে চাকরি হারানো স্থায়ী ও অস্থায়ী শ্রমিকরা তাদের বকেয়া না পাওয়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণকালীন সময়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জরুরি ভিত্তিতে পাওনা পরিশোধে বিজেএমসি ও মিল কর্তৃপক্ষের প্রেতি আহবান জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বকেয়া পাওনা পরিশোধ ছাড়াও এনআইডি কার্ডের বদলে জন্ম নিবন্ধন সনদ দিয়ে পাওনা পরিশোধ, ভূমি দস্যুদের কবল থেকে জুটমিলের জায়গা রক্ষা করাসহ বিভিন্ন দাবি জানান। আমিন জুট মিলের শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সরকারের নির্দেশে আসার পর ২০২০ সালের ৩রা জুলাই মিলের উৎপাদন স্থগিত হয়ে যায়। সেসময়ে মিলের স্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ২২৯২জন এবং বদলি শ্রমিক ছিলেন ২৩০০ এর মতো। আমিন জুট মিলের কলোনিতে জায়গা না হওয়ায় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে ২০০৭ সালে অনেক স্থায়ী ও বদলি শ্রমিককেসেখানে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাচা ঘর করে থাকতে বলা হয়েছিল। মিল কর্তৃপক্ষ সেসব বদলি স্থায়ী শ্রমিকরা সেসব বসতি ছেড়ে না দিলে বকেয়া পাওনা পরিশোধ করছে না।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আমিন জুটমিল সিবিএ’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল খালেক, আমিন পাটকল ওর্য়ার্কাস ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামশুল আলম, শ্রমিকনেতা আবদুর মোতালেব, আমিন জুটমিল ম্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন-সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা, সাংগঠনিক সম্পাদক চাঁন মিয়া প্রমুখ।








