সিপ্লাস প্রতিবেদক: অবশেষে সব দেশের জন্য ভিজিট ভিসা চালু করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। গালফ নিউজ এবং আরব আমিরাতের সংবাদ সংস্থা খালিজ টাইমসে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে ৩০ আগস্ট থেকে পৃথিবীর সকল দেশের জন্য দেশটির ট্যুরিস্ট বা ভ্রমণ ভিসা চালুর কথা উল্লেখ করা হয়।
এদিকে আরব আমিরাত ভিজিট ভিসা চালু করায় বাংলাদেশের বিশেষ করে চট্টগ্রামের বিশাল পুরুষ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেড়েছে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা। বুনতে শুরু করেছেন দুবাই ওয়ালা হওয়ার স্বপ্ন। করোনার কারণে দফায় দফায় ভিসা বন্ধ থাকার কারণে নিয়মিত যারা বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল তারা কেউই যেতে পারেনি। ফলে সংখ্যায় তারা বেড়ে গেছে অনেক।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, সাতকানিয়া এলাকার বেশিরভাগ মানুষ আমিরাতে যাওয়ার স্বপ্ন বুনেন বেশি। অধিকন্তু কাজের ভিসা পেতে আগে যে পরিমাণ হয়রানির শিকার হতে হতো এখন ভিজিট ভিসার কারণে অনেকটা সহজ হয়ে গেছে। অধিকাংশ ভিজিট ভিসার মানুষ এখন আমিরাত গিয়ে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশির কল্যাণে ইনভেস্টর বা পার্টনার ভিসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক হারে। ফলে গত কয়েক বছরে ব্যাপক সংখ্যক যুবক আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছেন। কিন্তু করোনার কারণে দফায় দফায় ভিসা বন্ধ থাকার কারণে এ সংখ্যা বিশাল আকার ধারণ করেছে।
এদিকে অনেকে মনে করছেন আমিরাতে ভিজিট ভিসা চালু হওয়ার সুবাদে হতে পারে দালাল চক্রের পোয়া বারো। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি থেকে রিটার্ন টিকেট, ইমিগ্রেশনের হয়রানি বন্ধে এয়ারপোর্ট কন্ট্রাক্ট, বিদেশে পৌঁছার পর ইনভেস্টর বা পার্টনার ভিসা লাগানোসহ সব প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে রমরমা বাণিজ্য।
তবে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের জন্য ভিজিট ভিসা চালু করলেও বাংলাদেশিদের আরব আমিরাতে যাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে কিছুটা জটিলতা। বাংলাদেশের এয়ারপোর্টে র্যাপিড টেস্ট পিসিআর মেশিন নেই। দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে দ্রুত পিসিআর মেশিন বসানোর জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার কারণে সে জটিলতাও এখন দূর হওয়ার পথে। তাই মানুষের আমিরাত যাওয়ার মনোবাসনা তিব্র আকার ধারণ করেছে বলে নানা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে।
ভ্রমণ ভিসায় প্রতিদিনই আমিরাতে পা বাড়াচ্ছেন বাংলাদেশিরা। এতে অনেকেই প্রতারণার শিকারও হচ্ছেন। এছাড়া চাকরির ভিসা পাইয়ে দেয়ার নামেও দালাল চক্রের প্রলোভনে অনেক বাংলাদেশি আমিরাতে এখন বেকায়দায়।
বিভিন্ন মহলের অভিমত, এতো কিছুর পরও এখনো দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর আকাঙ্খা বিদেশ যাওয়ার। দেশে কিছু করার চেয়ে বিদেশ গিয়ে রাতারাতি ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব বলে অনেকের ভ্রান্ত ধারণা। তাই পূর্ব পুরুষের বাড়ি-ভিটা এবং জমি বিক্রি করে যেকোন মূল্যে পাড়ি জমান স্বপ্নের প্রবাসে। কঠোর পরিশ্রমে কেউ কেউ সফল হলেও, নি:স্ব হওয়ার দৃষ্টান্ত অনেক। আরব আমিরাতের ভিজিট ভিসা চালু হওয়ার পর অনেকের মধ্যে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা তিব্র হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে গ্রামে-গঞ্জের প্রতি ঘরে ঘরে এমন চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আরো পড়তে পারেন:
- বেটারীগলির বাসা থেকে বের হয়ে ১দিন পরেও ফেরেননি বাদল মিত্র, সন্ধান চায় পরিবার
- কাজির দেউড়ি মোড়ে ভ্যান-টেম্পো-রিকশা ত্রিমুখী সংঘর্ষে আহত ৭

