নিউজটি শেয়ার করুন

আসন্ন চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে প্রধান দুই প্রার্থীর পেশী শক্তি প্রদর্শন

নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ নির্বাচনের প্রধান প্রতিদ্বন্ধী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীর পেশী শক্তি প্রদর্শনের হিড়িক লেগেছে। এধারা অব্যাহত থাকলে সামনের দিন গুলোর পাশাপাশি সার্বিক নির্বাচনের শান্তির শৃংখলা রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে৷ ইতিমধ্যে দু’দফা সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত দুইজন আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে৷ আহতদের একজন বিএনপি সমর্থক যুবদল নেতা মোশারক অপরজন আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষের যুবলীগ নেতা জাবেদ।

গত ২৮ ডিসেম্বর শনিবার দুপুরে চান্দগাও আবাসিক এলাকায় গণসংযোগে আসেন আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি তালিকাভূক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এসরারুল হক এসরালকে এলাকায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেন৷ চলমান শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে আছে এসরাল। সেদিন গণসংযোগে মোছলেম উদ্দিনের পাশে এসরালের প্রধান সহযোগী তালিভুক্ত অস্ত্র ব্যবসায়ী মইন উদ্দিন ফরহাদ ওরফে লম্বা মহিউদ্দিন কেও দেখা গেছে। মোছলেম উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেছেন, যে কষ্ট করে এসরারুল হক আমাদের এত বড় সমাবেশ করেছেন মিছিল করেছেন, তার উপর যে জুলুম চলছে, তার উপর যে আজকে বিধি নিষেধ সেটি প্রত্যাহার করার জন্য এই এলাকার জনগণের পক্ষ থেকে আমি দাবি জানাচ্ছি। আমাদের মধ্যে তিনি যেন ফিরে আসেন, আমাদের এই নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারেন তার ব্যবস্থা আমি করবো।” সিপ্লাস টিভির কাছে সেদিনের ভাষনের ভিডিও ক্লিপ সংরক্ষিত আছে৷ এই ঘটনার কয়েকদিন পর এসরালের ছোট ভাইয়ের নেতৃত্বে বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের সমর্থক যুবদল নেতাকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়।

এই ঘটনার পর ৩ জানুয়ারি যুবলীগ কর্মী ঈসমাইল হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার আসামীদের নিয়ে গনসংযোগ করেছে ধানের শীষের প্রার্থী আবু সুফিয়ান। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে গতকাল যুবলীগ কর্মী ঈসমাইল হত্যা মামলার প্রধান আসামী পৌর মেয়র আবুল কালাম আবু, হত্যা মামলার আসামী মোরশেদ,হত্যা মামলার আসামী যুবদল নেতা গোলাম হোসেন নান্নু,ডাকাত মোঃআলী,নারী নির্যাতন মামলার আসামী মোঃ সুজন ,কালা মামুনকে বিএনপি প্রার্থী গণসংযোগে দেখা গেছে।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় নগরীর ষোলশহর এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিনের পক্ষে গণসংযোগ চালানোর এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা কর্মীদের হামলার শিকার হন যুবলীগ নেতা জাবেদ৷ ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত জাবেদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে৷ জানা গেছে ২৮ ডিসেম্বর এসরালের সহায়তায় আয়োজিত গণসংযোগে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়৷ এই ঘটনার জন্য এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা ইলিয়াছকে দায়ী করেছে আহত জাবেদ৷

নির্বাচনের আগে বোয়ালখালীর একটি অনুষ্ঠানে যাওয়াকে কেন্দ্র করে হামলার শিকার হয়েছিলো বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান৷ সেদিনের ঘটনার জন্যে স্থানীয় বিএনপি নেতারা চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস.এম বোরহানকে দায়ী করেছিলো৷ এসব ঘটনায় নগরীর চাদগাঁও ও কর্ণফুলী নদীর ওপারের শহরতলী বোয়ালখালী উপজেলার বাসিন্দাদের জনমনে আতংক সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিষয়ে সিএমপি’র চাঁদগাও থানা ও জেলা পুলিশের বোয়ালখালী থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করলে তারা এখনো পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ আছে বলে দাবী করেন৷ আঞ্চলিক নির্বাচনী কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসারের দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান সিপ্লাসকে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে শতভাগ নিরাপদ করতে সকল ধরণের প্রদক্ষেপ নেয়া হয়েছে৷ ভোটের দিন কেন্দ্র গুলোতে আইন শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত করা হবে৷

এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দলীয় প্রার্থীর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ব্যস্ততার অজুহাতে কোন বক্তব্য দিতে রাজী হননি৷