ফরহাদ সিকদার: এবার ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। ভেঙ্গে ফেলা হবে নগরীর আগ্রাবাদ মোগলটুলি এলাকার আলোচিত সেই ১৪ তলা ভবনের অবৈধ অংশ। সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশনের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর ডিভিশন বেঞ্চ গেলো ৫ অক্টোবর ভবনের অবৈধ অংশটি অপসারণ করতে সিডিএ’কে নির্দেশ দিয়ে এই রায় দেন।
যেখানে সিডিএ থেকে ১০ তলার অনুমোদন নিয়ে অবৈধ ও বেআইনিভাবে ১৪ তলা করে ‘সামার এয়াকুব টাওয়ার’ নামে ভবনটি নির্মান করছে সামার হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেডের নামক একটি প্রতিষ্ঠান। তাই আদালতে জাল জালিয়াতির অভিযোগে সামার হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মোঃ জানে আলমকে ১০ লক্ষ টাকা জরিমানাসহ ফৌজদারী কার্যবিধি অনুযায়ী শাস্তির নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কে নির্দেশ দেন ভবনের অবৈধ অংশটি ভেঙ্গে ফেলার।

মুলত ২০১৬ সালের ৩১ মে ১০ তলা ভবন নির্মাণের জন্য অনুমোদন দেয় সিডিএ’র অথরাইজড বিভাগ (স্মারক নম্বর-৫৩৪/০২/২০১৫-২০১৬)। একই তারিখ এবং স্মারক নম্বরে একটি ‘জাল’অনুমোদন পত্র তৈরি করে সেখানে ১৪ তলার অনুমতি রয়েছে বলে দাবি করে নির্মাণ কাজ শুরু করে দেয় ডেভেলপার কোম্পানি সামার হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেড।

যেখানে দশ তলা ভবনটির অধিকাংশ ফ্ল্যাট বিক্রি হয়ে গেছে অনেক আগে।এরমধ্যে নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত এগারো থেকে তেরো তলার বেশ কয়েকটি ফ্ল্যাটও বিক্রি করেছে তারা।
আগের নিউজ: মোগলটুলির সেই অবৈধ ভবনের ডেভেলপারের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারী
এরপর ভবনের অবৈধ অংশটি ভেঙ্গে ফেলতে আদালতে মামলা করে সিডিএ। কিন্তু হাই কোর্টে আপিল করে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জানে আলম। পরে সুপ্রিম কোর্টের হাই কোর্ট ডিভিশন তার এই আপিল খারিজ করে দেন।

আদালতের রায়ে যা আছে:
আদালতের রায়ে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের মালিক মোঃ জানে আলমের আপিল খারিজ করে বলা হয়েছে সামার হোল্ডিংস প্রাইভেট লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মোঃ জানে আলম তার করা আপিলে জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে। যা ফৌজদারী কার্যবিধি ৪৭৬ এর ১৯৫ (১)(খ) ও (গ) ধারায় তার (মোঃ জানে আলম) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাই কোর্ট ডিভিশনের রেজিস্ট্রার বরাবর নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং বিচারের কপি হাতে পাওয়ার সাত দিনের মধ্যেই ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
পাশাপাশি বাংলাদেশে নামে বেনামে হওয়া এসব ডেভেলপার কোম্পানি গুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট। এমনকি ভূমি মালিক কিংবা ফ্ল্যাট ক্রেতারাও যে এসব ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অসহায় সেই ব্যাপারেও বলা হয়েছে এই রায়ে।

আগের নিউজ: মোগলটুলির সেই অবৈধ ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা
ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে সিডিএ:
এদিকে সিডিএ’র ইতিহাসে এরকম বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ ভেঙ্গে ফেলার ঘটনা এবারই প্রথম। তাই উচ্চ আদালতের এই রায় সিডিএ যথাযথভাবে কার্যকর করলে এবং ভবনের অবৈধ অংশটি ভেঙ্গে ফেললে তা হবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইতিহাসে একটি নজিরবীহিন ঘটনা এবং এটি অবৈধ বিল্ডিং নির্মাণকারীদের জন্যও একটি সতর্ক সংকেত বলে মনে করছেন সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ৯০ দশকের পর থেকেই মুলত বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে চট্টগ্রামে। এর আগে সিডিএ অনেক সময় অবৈধ বাজার কিংবা এক তলার অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করলেও এরকম বহুতল ভবনের অবৈধ অংশ অপসারণ করার ঘটনা এবারই প্রথম।
শাহিনুল ইসলাম খান আরো বলেন সিডিএ মহামান্য হাই কোর্টের এই রায় যথাযথভাবে পালন করবে। ভবনটির অবৈধ অংশ অপসারণ করা হলে তা সিডিএ (চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ)’র ইতিহাসে একটি নজির হিসেবে থাকবে। পাশাপাশি এই ঘটনা অবৈধ ভবন নির্মাণকারীদের জন্যও একটি সতর্কতা সংকেত।
অবৈধ অংশ অপসারণ করা হবে কখন?
তবে কবে নাগাদ ভাঙ্গা হতে পারে এই অবৈধ অংশটুকু, সেই প্রসঙ্গে সিডিএর প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ শাহিনুল ইসলাম খান বলেন- আদালত থেকে রায়ের সার্টিফাইড কপি হাতে পেয়েছি। ইতিমধ্যেই আমরা সার্টিফাইড কপি সহ চেয়ারম্যান মহোদয়কে দিয়েছি। উনার (সিডিএ চেয়ারম্যান) অনুমতি পেলেই আমরা অবৈধ অংশটি অপসারণ করে ফেলব। আমরা আশা করছি তা এই মাসের মধ্যেই সম্ভব হবে।
ভিডিও: ইতিহাস সৃষ্টি করতে যাচ্ছে সিডিএ, ভেঙ্গে ফেলা হবে ১৪ তলা ভবনের অবৈধ অংশ
উল্লেখ্য গত ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই অবৈধ এই ভবনটি নিয়ে বেশ কয়েকটি রিপোর্ট করেছে সিপ্লাসটিভি।








