Site icon CPLUSBD.COM

ইভ্যালির সার্ভারেই মিলছে নয়-ছয়ের প্রমাণ!

ছবি: সংগৃহীত

সিপ্লাস ডেস্ক: পণ্য দেওয়ার কথা বলে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার একটি হিসাব পাওয়া গেছে বিতর্কিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ইভ্যালির সার্ভারে। পুলিশের অনুসন্ধানে পাওয়া এই হিসাবে গেছে, গ্রাহকদের কাছে ৭০০ কোটি টাকারও বেশি দেনা আছে প্রতিষ্ঠানটির। এছাড়াও সরাসরি ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তি করে সরাসরি পণ্য বিক্রির চেষ্টা করেছিল কিছু প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের তথ্যও পাওয়া গেছে।

অর্থাৎ, ইভ্যালির অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে তাদের সার্ভারেই। এসব তথ্য এখন যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

ইভ্যালিতে মোটা অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ করেছেন প্রায় শতাধিক ব্যক্তি। বিভিন্ন সময় পণ্য পেয়ে তারা পুনরায় বিনিয়োগ করেছেন। মূলত অফারের প্রলোভন দেখিয়ে এসব গ্রাহককে আটকে রেখেছিল ইভ্যালি।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রতিষ্ঠানটির নেওয়া অর্থের তথ্য সার্ভারে থাকলেও খরচে গোঁজামিল রয়েছে। অর্থ ব্যয়ের যে লিখিত জবাব ইভ্যালি দিয়েছে তা যাচাই করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সরবরাহকারীরাও ইভ্যালির কাছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা পাবে। সব মিলিয়ে প্রাথমিক তদন্তে ইভ্যালির দেনা ৯৫০ কোটি টাকারও বেশি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘ইভ্যালির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মো. রাসেল বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত জবাব দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য ও আমাদের তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।’’

গত ১৬ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় একজন গ্রাহক মামলা করলে সেদিন বিকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় অভিযান চালিয়ে ইভ্যালির সিইও রাসেল এবং  তার স্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে (চেয়ারম্যান) গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

১৭ সেপ্টেম্বর গুলশান থানার মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলামের আদালত আসামিদের তিন দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার রিমান্ড শেষে গুলশান থানা পুলিশ তাদের আদালতে তোলা হলে ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা আরেক গ্রাহকের মামলায় রাসেলের একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই মামলায় শামীমা নাসরিনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।

পরের মামলার এজাহারে কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘‘তিনি মেট্রো কাভারেজ, স্মার্ট ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, ফ্রিডম এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট বিডি ও ফিউচার আইটি নামে প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ইভ্যালির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে গ্রাহকদের মোট ৩৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকার পণ্য সরবরাহ করেছেন। পণ্য সরবরাহের বিপরীতে ইভ্যালি তাদের একটি চেক দিলেও সেই অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা ছিল না। এ ঘটনায় চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি তারা ইভ্যালির বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় একটি জিডিও (নম্বর- ৭০৬) দায়ের করেন। তবু ইভ্যালি তাদের অর্থ পরিশোধ করেনি।’’

সবশেষ, প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই দম্পতির বিরুদ্ধে বুধবার ঢাকার আদালতে মামলা করেন এক গ্রাহক।