সিপ্লাম ডেস্ক: ইসরায়েলে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত দু ওয়েই‘কে তেল আবিবে তার নিজের বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং প্রাথমিক অনুসন্ধানে কোনো ষড়যন্ত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে ইসরায়েলের এক কর্মকর্তা দাবি করেছেন।
৫৭ বছর বয়সী এ কূটনীতিক ইসরায়েলে রাষ্ট্রদূত হওয়ার আগে ইউক্রেইনে চীনের দূতের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিবাহিত এ কূটনীতিকের একটি ছেলে থাকার কথা জানা গেলেও পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে ইসরায়েলে ছিলেন না। তিনি তেল আবিবের হার্জলিয়ার একটি বাড়িতে থাকতেন।
“নিয়ম অনুযায়ী, পুলিশের ইউনিটগুলো এখন ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন ইসরায়েল পুলিশের এক মুখপাত্র।
নামহীন কয়েকটি মেডিকেল সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ টেলিভিশন জানিয়েছে, ঘুমের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই দু’র মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পাওয়ার পর দূতাবাসের ওয়েবসাইটে লেখা এক বার্তায় দু বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশের সঙ্গে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলে আসার পর তিনি নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলার নির্দেশনা মেনে দুই সপ্তাহ স্বেচ্ছা আইসোলেশনে ছিলেন।
গত মাসে ইসরায়েলি গণমাধ্যম মাকর রিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কূটনীতিক করোনাভাইরাস নিয়ে চীনের উপর অহেতুক দায় চাপানোর কড়া সমালোচনা করেছিলেন।
“ইতিহাসে একাধিকবার মহামারী ছড়ানোর জন্য সুনির্দিষ্ট একদল মানুষের উপর দায় চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ঘৃণ্য কাজ এবং অবশ্যই এর নিন্দা করা উচিত। এই রোগটি সমগ্র মানবজাতির শত্রু, পুরো বিশ্বেরই উচিত এর বিরুদ্ধে এক হয়ে লড়াই করা,” বলেছিলেন তিনি।
ইসরায়েল সফরে এসে নতুন করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চীনের নেওয়া পদক্ষেপের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। এই সমালোচনাকে ‘অযৌক্তিক’ অ্যাখ্যা দিয়ে শুক্রবার জেরুজালেম পোস্টে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় দু’র দূতাবাস বলেছে, চীন করোনাভাইরাস সংকট নিয়ে কখনো কোনো ধরনের লুকোচুরি করেনি।

