নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলামী যুব ও ছাত্রসেনার নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পড়ে চট্টগ্রামে ফিরে গেছেন আল্লামা আবুল কাশেম নুরী ও তার সফরসঙ্গীরা।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের রাঙামাটি জেলার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম নঈমী, রাঙামাটি ইসলামী যুব সেনার সভাপতি মোঃ আলী খান, আল্লামা আবুল কাশেম নুরীসহ আরো কয়েকজনের উপস্থিতিতে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এক পর্যায়ে কয়েকজন আবুল কাশেম নুরীকে বের হয়ে যেতেও বলেন।
আসলে কি ঘটেছিল তা জানতে যোগাযোগ করা হলে আল্লামা আবুল কাশেম নুরী সিপ্লাসকে বলেন, “আমি গিয়েছিলাম বেতবুনিয়ায় একটি মাদ্রাসায় সেখান থেকে আমি ইসলামী ফ্রন্ট রাঙামাটি জেলার সভাপতি মাওলানা নুরুল আলম হেজাজী ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের রাঙামাটি জেলার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম নঈমী’র সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আমি নজরুল ইসলাম নঈমী সাহেবের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ে যুবসেনার কয়েকজন নেতৃবৃন্দ আমার সাথে বেয়াদবি শুরু করে এবং আমাকে হেনস্তা করে। এক পর্যায়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।”
তিনি বলেন “আমি এবং মুফতি ইব্রাহীম আমরা দুইজনই নাকি সন্ত্রাসী মৌলবী। মতিনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে ছাত্রসেনা, যুবসেনাকে। এটা নাকি উপরের নির্দেশ। আমরা যেখানেই যাই গ্রামে-গঞ্জে, শহরে-বন্দরে আমাদের প্রতিরোধ করার জন্য ছাত্রসেনার প্যাডে, যুবসেনার প্যাডে উপর থেকে নাকি নির্দেশ এসেছে আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।”
এসব বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মহাসচিব এম এ মতিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সিপ্লাসকে বলেন, “আসলে আল্লামা কাশেম নুরী সাহেবের অভিযোগ মোটেই সত্য নয়, উনিতো আমার প্রতিদন্ধী কিংবা প্রতিপক্ষও নন। আমি সংগঠন এবং সুন্নী জামায়াতের মাজাহাবের স্বার্থে এই বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে চাচ্ছিনা। তবে এটুকু বলে রাখি, গিয়াস উদ্দিন তাহেরী নামক একজনের অনলাইন লাইভে মুফতি ইব্রাহীম বেশ কিছু মিথ্যাচার করেছেন। তিনি বলেছেন ছাত্রসেনা, যুবসেনাকে নাকি নিশ্চিহ্ন করে দিবে। আল্লামা আবুল কাশেম নুরী এবং মুফতি ইব্রাহীম দুইজনে মিলেই এই মিথ্যাচারগুলো করছেন।”
তিনি আরো বলেন, “যেহেতু উনারা(আল্লামা কাশেম নুরী ও মুফতী ইব্রাহীম) চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন যুবসেনা, ছাত্রসেনাকে নিশ্চিহ্ন করে দিবেন, তারাও চ্যালেঞ্জটা নিয়েছে। যেহেতু তারা ছাত্রসেনা, যুবসেনাকে নিশ্চিহ্ন করে দেবার যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন সেহেতু তাদেরকে গ্রামে গ্রামে প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত তাদের (ছাত্রসেনা, যুবসেনা) নিজেদের।”
রাঙামাটি ইসলামী যুব সেনার সভাপতি মোঃ আলী খান জানিয়েছেন, আমরা সকলেই একই মতাদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত এর সহযোগি সংগঠন সমুহে দায়িত্ব পালন করে আসছি। কিন্তু কিছুদিন ধরেই আমাদের মুরব্বী মাওলানা আবুল কাশেম নুরী তার নিজস্ব কিছু মতামত চাপিয়ে দিয়ে নিজেদের মতো একটি কমিটি ঘোষণা করে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে তিনি ও তার সহযোগিরা সফর করে ইসলামী ফ্রন্ট ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নেতাকর্মীদের ভূল বুঝিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে আসছে। বিষয়টি আমরা আমাদের সিনিয়র নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে জেনে আসছি। এমতাবস্থায় বুধবার বেলা সাড়ে এগারটার সময় মাওলানা আবুল কাশেম নুরী ও তার আরো চার সফরসঙ্গীকে সাথে নিয়ে রাঙামাটি আসেন। এসময় তারা আমাদের দুইজন সিনিয়র মুরব্বী ইসলামী ফ্রন্ট রাঙামাটি জেলার সভাপতি শ্রদ্ধাভাজন আলেম মাওলানা নুরুল আলম হেজাজী ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের রাঙামাটি জেলার সভাপতি মাওলানা নজরুল ইসলাম নঈমী’র সাথে সাক্ষাতের চেষ্টা করে। এসময় ইসলামী যুব সেনা ও ইসলামী ছাত্রসেনাসহ সমমনা সংগঠনের কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ মাওলানা আবুল কাশেষ নুরী ও তার সফরসঙ্গীদের সাথে দেখা করে। এসময় রাঙামাটির মুরব্বীদের মাঝে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি না ছড়ানোর অনুরোধ করে তাদেরকে রাঙামাটি ত্যাগ করার অনুরোধ করা হয়। কিন্তু মাওলানা আবুল কাশেম নুরী ও তারসঙ্গীরা একসময় তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্তিতির সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন ইসলামী যুবসেনার সভাপতি মোঃ আলী খান।








