নিউজটি শেয়ার করুন

ইয়াবা সম্রাট আমিন হুদা মারা গেছেন

ইয়াবা সম্রাট ৭৯ বছরের সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আমিন হুদা মারা গেছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন সেলে তার মৃত্যু হয়। দেশে ইয়াবা কারবার শুরু হওয়ার পর পরই ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর র‍্যাব তাকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার করেছিল।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাহবুবুল ইসলাম জানান, আমিন হুদা হৃদরোগসহ শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাঁর লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কারাগার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাজা হওয়ার পর আমিন হুদা কারাগারে ছিলেন প্রায় সাত বছর ধরে। এর মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় তিন বছর কাটিয়েছেন হাসপাতালের কেবিনে।

২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর মাদকসহ গ্রেপ্তার হন আমিন হুদা ও তাঁর সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসান। গুলশানের একটি বাড়ি থেকে ৩০ বোতল ফেনসিডিলসহ আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হক ওরফে হাসানকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুলশানের আরেকটি বাসা থেকে ১৩৮ বোতল মদ, পাঁচ কেজি ইয়াবা বড়ি (১ লাখ ৩০ হাজার পিস) এবং ইয়াবা তৈরির যন্ত্র ও উপাদান উদ্ধার করা হয়।

ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আসামিদের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়। ওই দুই মামলায় ২০১২ সালের ১৫ জুলাই এক রায়ে আমিন হুদা ও তার সহযোগী আহসানুল হককে বিভিন্ন ধারায় জরিমানাসহ ৭৯ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন বিচারিক আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর ২৯ জুলাই হাইকোর্টে আপিল করার পাশাপাশি জামিনেরও আবেদন করেন আমিন হুদা।
২০১৩ সালে হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে ওই বছরের ৫ মে আপিল বিভাগ জামিন বাতিল করে তাঁকে আত্মসমর্পণ করতে ও হাইকোর্টে আপিল নিষ্পত্তির জন্য নির্দেশ দেন। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।

আমিন হুদাকে গ্রেপ্তারের পর ওই সময়ে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে। ওই সময় র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা বিভাগ ইয়াবা কারবারিদের খুঁজে বের করতে বেশ তৎপর হন। তারা জানতে পারেন দেশে বিশিষ্ট এক শিল্পপতির আত্মীয় আমিন হুদা মিয়ানমার থেকে শুধু ইয়াবা আনছেনই না তিনি ঢাকায় ইয়াবা তৈরি করছেন। এর পর র‍্যাব তার বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে।

ওই সময় র‍্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, আমিন হুদার বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় আমিন হুদা নিজেকে ইংরেজিতে কথা বলে বিদেশি হিসেবে পরিচয় দেন। তার চেহারা বিদেশিদের মতো লাগায় ভুল ইনফরমেশনে এসেছেন এমন মনে হয় র‍্যাব কর্মকর্তার। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মোবাইল ফোনে সোর্সের কাছে নিশ্চিত হতে চান।

সোর্স নিশ্চিত করেন যে, যে বাড়িতে অভিযান চালানো হয়েছে সেটি আমিন হুদারই। পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তারা ভেতরে ঢুকে যান এবং তার বাসায় বেশ কিছু মদের বোতল দেখতে পান। তখন জেরা করার সময় আমিন হুদা ইংরেজি ছেড়ে বাংলায় কথা বলা শুরু করেন।

পরে তার আরেকটি বাড়ি থেকে পাঁচ কেজি ইয়াবা ও ইয়াবা তৈরির সরঞ্জাম পাওয়া যায়। ওই অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাঁচ কোটি টাকা ঘুষ সাধেন আমিন হুদা। কিন্তু কাজ হয়নি। তাকে ধরতে ১৮ দিন ধরে অনুসন্ধান করেছিল র‍্যাব।