নিউজটি শেয়ার করুন

ঈদগাঁহতে নেশাগ্রস্থ ছেলের বিরুদ্ধে পিতার অভিযোগ,এক ছেলে আটক

কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহ ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ইউছুপেরখীল এলাকার নেশাগ্রস্থ দুই ছেলের অত্যচারে অতিষ্ঠ হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে জন্মদাতা পিতা।

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঈদগাঁহ তদন্ত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিলে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ১নং আসামী আলী মিয়া (৩২) কে আটক করেন পুলিশ।

গত মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে তাকে ইসলামাবাদ ফকিরা বাজার এলাকা হতে আটক করা হয় বলে জানান ঈদগাঁহ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান।

কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ উল্লাহ মারুফ বরাবর দায়ের করা পিতার লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উল্লেখিত ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মৃত সোলেমানের ছেলে বৃদ্ধ আবদুল জব্বারের সংসার জীবনে ৩ জন ছেলে ৪ মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে মারা গেছে, অপর দুই ছেলে আলী মিয়া (৩২) ও মোবারক আলী (২৭) এদের জন্য ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করেন এবং সামাজিক ভাবে ৪ মেয়ের বিয়ে দেন পিতা-মাতা। পিতা মাতা দু’জনই বয়োবৃদ্ধ হয়ে বসত ঘরে বসবাস করে আসছিল। ইত্যবসরে ছেলে আলী মিয়া ও মোবারক আলী মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এলাকার খারাপ ছেলেদের সাথে মিশে ইয়াবা সেবনে আসক্ত হয়ে উঠে। তারা নিয়মিত ইয়াবা, গাঁজা সেবন পূর্বক মাতাল হয়ে বাড়ীতে এসে মাতলামি করে। প্রায়শঃ মাতাল হয়ে বাড়িতে এসে জিনিস পত্র ভাংচুর, বাড়ীর সবাইকে মারধরসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে থাকে। ইয়াবা সেবনের জন্য টাকা না পেলে বাড়ির গাছগাছালি কেটে পেলে, বাড়ির জিনিস পত্র বাহিরে বিক্রি করে দেয়। পিতা মাতা বাধা দিলে তাদেরকে বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন করে।

অভিযোগে তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিগত ৩ মাস পূর্ব হতে তারা দুই ভাই মিলে তাদেরকে নির্যাতন পূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেন। সেই থেকে অদ্যবধি তারা স্বামী স্ত্রী মেয়েদের বাড়িতে দিন যাপন করে আসছে। বর্তমানে বাড়ির আসবাবপত্র, গাছ-গাছালি কেটে বাড়ি ভিটা উজাড় করে দেয়। নেশাগ্রস্থ হয়ে এলাকার লোকজনের সাথে খারাপ আচরণ, জিনিস পত্র ভাংচুর, মারামারিসহ অবৈধ কর্মকান্ডের কারণে পরিবার এবং আত্মীয় স্বজনরা সবাই অতিষ্ঠ। তাদের অত্যচারে ভয়ে কেউ কোন কথা বলার সাহস করে না। তাদের বিষয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেম্বার কয়েক দফা বিচারও করেছিল।

জনপ্রতিনিধিদের কথা ও রায় অমান্য করে পূনরায় খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে।

তাদের অত্যচারে অতিষ্ঠ ও নিরুপায় হয়ে ন্যায় বিচারের স্বার্থে কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর অভিযোগ দায়ের করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে শরণাপন্ন হন বাবা।

এদিকে বাবার লিখিত অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে ০৫.২০.২২০০.২২২৪.০৬.০২.২০২০-১৯৬ স্মারক মুলে ঈদগাঁহ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জকে নির্দেশ প্রদান করেন।

প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র পেয়ে ইনচার্জের নির্দেশে তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক বিলাস সরকার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ছেলে আলী মিয়াকে আটক করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইনচার্জ মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, বাবার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আলী মিয়াকে আটক করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ভ্রাম্যমাণ) আদালতে সোপর্দ করা হবে।