কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁহ-চৌফলদন্ডী বাজারে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছে দুই জন। তারা হল দক্ষিণ পাড়ার আমির হামজার ছেলে সরওয়ার ও ছৈয়দ কামাল প্রকাশ কালা শোনা। তাদেরকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৭ টায় চৌফলদন্ডী বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। আহতের ছোট ভাই দেলোয়ার কামাল জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে একই এলাকার একরাম মিয়া মেম্বারের ভাই এবং পারভেজ কামালের নেতৃত্বে হাফেজ মিয়া, সিরাজ, একরামের স্ত্রী বাহার খাতুন, পেঠান, মনিরুল হক,মাহবুবুল আলম, তারেকসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন দূর্বৃত্ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ভাই সরওয়ার ও ছৈয়দ কামালকে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে এলোপাতারি হামলা করে।
এ সময় একজনের কপালে গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হন। অপরজনকে উপর্যপুরী মারধর করা হয়। তাদের শোরচিৎকারে ব্যবসায়ী, তাদের আত্মীয় স্বজন, প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। সংগঠিত এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানান আহতদের ছোট ভাই দেলোয়ার কামাল। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ খায়রুজ্জামান বলেন, মামলা বা অভিযোগ করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ পদক্ষেপ নেয়া হবে।
অভিযোগ উঠেছে, বহু অপকর্মের হোতা শীর্ষ মানবপাচারকারী, ইয়াবা সম্রাট একরাম মিয়া মেম্বার ৪/৫ মাস আগে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেলে ক্ষনিকের জন্য অপরাধ বন্ধ রাখেন তার আপন সহোদর এবং একরাম বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড পারভেজ। সম্প্রতি ভাইয়ের মৃত্যুর পর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জন্য গড়ে তুলেছে পারভেজ বাহিনী নামের আরেকটি গ্রুপ। এ গ্রুপের সদস্যদের দিয়ে পাচার এবং বিক্রি হচ্ছে ইয়াবাসহ হরেক রকমের মাদক। কথায় কথায় অস্ত্র প্রদর্শন, মেরে ফেলার হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজি এবং নানান অপরাধ মুলক কর্মকান্ড। কিছুদিন স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও ফের নতুন করে বাহিনী গঠন করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করায় স্থানীয়দের মাঝে অজানা আতংক বিরাজ করছে বলে জানান লোকজন। তাদের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে এই বাহিনীর প্রধান পারভেজসহ অপরাপর সদস্যদের আটক করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এক তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, কিছুদিন আগে কালামিয়া নামক এক বোটের মাঝিকে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। আহত ব্যক্তি ভয়ে মামলা বা অভিযোগ করার সাহস পায়নি।সম্প্রতি হিন্দু পাড়ার জনৈক মহিলাকে সুদে’র টাকার জন্য বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়।দক্ষিন পাড়ার মোক্তারের বাড়িতেও একই কারণে তালা লাগিয়ে দেন। ভুক্তভোগীরা জানান, পারভেজ বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছে এলাকার লোকজন। তাদেরকে দমন করা না গেলে চৌফলদন্ডীতে বড় ধরনের ঘটনার জন্ম নিতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।








