Site icon CPLUSBD.COM

এই প্রথম মাছের রেণু প্রক্রিয়াজাত করে হালদায় অবমুক্ত

দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্যপ্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে অতীতে স্থানীয় হ্যাচারি থেকে রেণু ক্রয় করে কার্প জাতীয় মাছ ছাড়া হতো। ফলে এসব মাছ আশানুরূপ ফল পাওয়া যেত না। তবে এবার প্রথমবারের মতো হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীর মাছে রেণু প্রক্রিয়া করে হালদায় অবমুক্ত করা হয়েছে।

হালদা নদীর পোনা অনেক মানসম্পন্ন। তাই হালদার পোনা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বাজারজাত করা হলেও এ নদীতে ফেলার কোনো উদ্যোগ ছিল না।

কিন্তু এবার প্রথমবারের মতো উপজেলা প্রশাসন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর কার্প জাতীয় মা মাছের মজুদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে গত মৌসুমে হালদা নদীর এককেজি রেণু ক্রয় করে।

প্রতিকেজি রেণু থেকে প্রায় দুই লাখ পোনা হয়। তবে এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রেণু থেকে পোনা হয়।

এ হিসেবে গত জুন থেকে গড়দুয়ারা ইউনিয়নের একটি পুকুরে নিবিড় পরিচর্যা করে বর্তমানে এককেজি রেণু থেকে এক লাখ পোনা মাছ তৈরি হয়।

মাছের পোনা ৬ ইঞ্চি বা তার বেশি আকার ধারণ করায় মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে সেই মাছ অবমুক্ত করে হাটহাজারী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মাদ রুহুল আমীন।

ইউএনও রুহুল আমীন বলেন, প্রথমবারের মতো উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হালদা নদীর পোনা হালদায় ফেলার লক্ষ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করি। ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও খাবার দিয়ে প্রায় ৬ ইঞ্চি ও তার অধিক আকার ধারণ করায় এসব মাছ হালদা নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে।

হালদা নদীতে উন্নতমানের মা মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে ডিমের পরিমাণও বাড়বে। যা দেশের মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো বলেন, পোনা মাছ অবমুক্তকরণে আজকে কোন ব্যানার, কোন অতিথি নেই। শুধুমাত্র হালদার প্রতি যাদের ভালবাসা ও নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তাদের নিয়েই হালদায় ১৭ থেকে ১৮ হাজার মাছের পোনা ছাড়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হালদায় এক লাখ পোনা মাছ ছাড়া হবে।