জিয়াউল হক ইমন: আগ্রাবাদ সিডিএ’র বাসিন্দা মৌসুমী আক্তার নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী চিকিৎসা করতে গিয়ে প্যাথলজিক্যাল টেস্ট টিএসএইচ প্রথমে শেভরন, পরে হেলথকেয়ার ও বায়োল্যাব নামের ল্যাবে টেস্ট করেন।
প্রথম রিপোর্টে সন্দেহ জাগায় পরে আরো দুটো ল্যাবসহ তিন ল্যাব তিন ধরনের রিপোর্ট দিয়েছে।
গত ৪ জুলাই চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসাপাতালের এক গাইনি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের চিকিৎসাধীন থাকা গৃহবধূ সুমি আক্তার ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ৫ জুলাই অন্যান্য প্যাথলজিক্যাল টেস্টের সাথে হরমোন অবস্থা জানার জন্য সিরাম টিএসএইচও করান । কিন্তু বিপত্তি বাধে রিপোর্ট পাওয়ার পর যেখানে শেভরণ ক্লিনিকেল ল্যাবরেটরী সিরাম টিএসএইচএর রেজাল্ট ০.০৮৫ আসে। যার জন্য চিকিৎসাধীন ডাক্তারের পরামর্শে আবার হরমোন বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে গেলে, ডাক্তার আবারো আরো কিছু হরমোনের প্যাথলজিক্যাল টেস্ট দেন।
এক পরিচিত ডাক্তারের পরামর্শে শেভরনে করা একই টেস্ট আরো দুটো ল্যাবে করালে রিপোর্ট আসে ১.৫০০ ও ১.১৪ যা স্বাভাবিক। ঠিক তখনই রোগীর দম ফিরে আসে বলে জানান চিকিৎসাধীন সুমির স্বামী মো. শাহীন।
বুধবার(২৩ জুলাই) বিকালে শেভরনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর স্বামী।
বিষয়টি যেহেতু চিকিৎসা বিজ্ঞানের সেহেতু প্রথমে পাওয়া এই অস্বাভাবিক রির্পোটে নিয়ে চিকিৎসা চালালে কি ধরণের ক্ষতি হতে পারে? জানতে চেয়েছিলাম ঔষুধ বিজ্ঞানী ও চবির চিকিৎসা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ডা. সেলিম মো. জাহাঙ্গীর কাছে।
তিনি জানান, দ্বিতীয়বার টেস্ট করিয়ে ভাল করেছেন ভুক্তভোগী। অন্যথায় প্রথম টেস্টের রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা চালালে অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তাঁর সন্তানের ক্ষতি হতে পারতো।
বিষয়টি জানতে শুক্রবার বিকালে শেভরনে গেলে শেভরনের কর্তৃপক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি।
শেভরনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গোলাম মর্তুজা হারুণকে বার বার ফোন করেও কোন সংযোগ পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত: এসমস্ত প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্টে অনেক সময় বেশীরভাগ নামসর্বস্ব ল্যাবে ডাক্তার সীল ও সাক্ষর টেকনেশিয়ানরা করে বলে অভিযোগ অনেক আগের। চিকিৎসা, চিকিৎসক ও প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা নিরীক্ষা একে অপরের পরিপূরক।
এর কোন একজায়গায় ভুল ভ্রান্তি থাকলে রোগীর জন্য বেশ ঝুঁকি থাকে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।








