রামু প্রতিনিধি: একজন কর্মঠ দায়িত্বশীল অফিসারই পারেন শ্রম ও দক্ষতার মাধ্যমে একটি উপজেলার পরিবর্তন করতে। তার বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে পর্যটন নগরী কক্সবাজারের রামু উপজেলা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) প্রনয় চাকমা, কার্যকরী উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ করোনা মহামারীতে সম্মুখ সারিতে থাকে, আসল নায়কের ভূমিকায় বদলে যাচ্ছে রামু উপজেলার চিত্র। তিনি ২০১২ সালের ১৬ মে তারিখ, রামু উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করেন।
তাঁর যোগদানের পর থেকেই উপজেলার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নবরূপে রূপান্তরিত হতে শুরু করেছে। জানা গেছে, প্রনয় চাকমা দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই উপজেলার ১১ ইউনিয়নের নানা অপরাধ, ভূমিদূস্যু, অবৈধ বালি উত্তোলনকারী, পাহাড় খেকোঁ, সরকারী জায়গা দখলবাজ, বনবিভাগের জায়গা দখলকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীসহ বাল্য বিবাহ রোধে পর পর অভিযান চালিয়ে রামু থেকে নানা অপরাধকে জিরোতে নামিয়ে এনেছেন।
এতেই থামেননি তিনি! এছাড়া গর্জনিয়া কচ্ছপিয়ার বাকঁখালীর নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনের দীর্ঘদিনের বালি সিন্ডিকেট ভেঙে অবৈধ ব্যবসা বন্ধ করা হয়। উপজেলার সকল অফিসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা নিরসন করেন তিনি। যার ফলে অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে সকল উন্নয়নমূলক ফাইল তড়িৎ গতিতে হচ্ছে। সামপ্রদায়িক দাঙ্গা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিন থেকে নিয়ন্ত্রণহীন বালুমহালের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে আনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে নাগরিকদের বসার জন্য দৃষ্টিনন্দন আসবাবপত্রের ব্যবস্থা, উপজেলা পরিষদ বাংলো ও কনফারেন্স রুম আধুনিকায়ণ করেন। সমপ্রতি রামু উপজেলা সত্তরে দৃষ্টি নন্দন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর নির্মান করে, পুরো দেশে প্রশংসিত ও আলোচিত হন ইউএনও প্রনয় চাকমা। ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের মাধ্যমে উপজেলাকে ভিক্ষুকমুক্তকরণ এবং রামুবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি রামু চৌমুহনীকে স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করেন।
এতে তার যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণে রামুর আলিগলি স্থায়ী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হতে চলছে। শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্বপ্ন যাত্রা’ বাস উপহার দিয়ে পুরো দেশে নজির স্থাপন করেছেন তার উন্নয়নমূলক কাজকর্ম স্বচক্ষে দেখে গোটা উপজেলাবাসী তাকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন। দেশের করোনা কালিন এই মহা দূর্যগে সাহসিকতার সাথে সামনের সারিতে থাকে রামুর ১১ ইউনিয়ন বাসীকে দেশের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় বলতে গেলে এখনোও করোনা মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। করোনা নিয়ন্ত্রণে নানা কর্মসুচির পাশাপাশি রাত দিন ছুটে চলছেন মানুষের ঘরে ঘরে।
লাখোও রামুবাসীর দাবী এমনই অফিসার যেন বাংলার প্রতিটি উপজেলায় হয়। রামু উপজেলা প্রশাসনের পেইজ বুক ওয়ালে ইউএনও প্রনয় চাকমা লিখেছেন, একটি পিলে চমকানো পোষ্ট! তা নিম্মে হবুহু তুলে ধরা হলো, আমি প্রনয় চাকমা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, রামু করোনাকালের এই ষাটতম দিনেও মাঠে-ঘাটে চষে বেড়াচ্ছি, যাচ্ছি প্রতিটি মানুষের দুয়ারে। সচেতন করছি, ত্রাণ দিচ্ছি। যার বাসায় অন্ন নেই তার বাসায় নিজে অন্ন দিয়েছি। এটি আমার গল্প। জীবনের তরে আমার জীবন উৎসর্গ করলাম। আমি মানুষটা এমনই। এবার আসি উপজেলা প্রশাসন, রামুর কথায়। এটি আমার সংসার। আমি এই সংসারের ব্যবস্থাপক। আমার সংসারে উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারীকে নিয়ে করোনাকালের এই সংকট মোকাবেলায় রাত-দিন কাজ করছি। আমরা সবাই রামুরই।
কারণ আমরা রামুকে ভালোবাসি, রামুর মানুষকে ভালোবাসি এবং ভালোবাসব। আর ভালোবাসি বলেই এখনো আছি এবং থাকবো। এখন আসি রামুর আপামর মানুষের কথায় যারা আমার এবং আমাদের সংসারের মূল কেন্দ্র। যাদেরকে নিয়ে আমরা রচনা করি আমাদের সাফল্য গাথা। করোনা সংকট শুরু হওয়ার সময় থেকেই রামুর সচেতন মানুষ আমাকে এবং আমার সংসারকে বেগবান করেছেন এবং করছেন বিভিন্ন তথ্য দিয়ে যাতে রামুর আপামর জনসাধারণ করোনাকে চিনে এবং জানে। আমি এবং আমার উপজেলা প্রশাসন সমর্থ হয়েছি করোনাকালের ৫০ তম দিনেও কোন করোনা পজিটিভ রোগী আমাদের রামুতে সনাক্ত হয়নি। এখানেই আমাদের সাফল্য গাথা।
আর একজন যিনি হয়েছেন তিনি তো সনাক্ত হওয়ার একদিন আগে রামুতে আসছেন। আর এখন আসি ত্রাণের কথায়। মাননীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনাক্রমে ১১ ইউনিয়ন পরিষদকে সাথে নিয়ে অসহায়-দুঃস্থ মানুষের দুয়ারে দুয়ারে আমরা এখনো ত্রাণ পৌছাচ্ছি। আমরা আমাদের সবকিছু নিয়ে এই সংকটকে মোকাবেলা করছি এটি আমাদের প্রত্যয়। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাংগালি জাতির পিতা বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ০৭ ই মার্চের সেই ভাষণ আমাদের প্রেরণা। এই যুদ্ধে আমরা সফল হবোই। পরিশেষে আসি টমটম, সিএনজি বা মাহিন্দ্র এর কথায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা প্রশাসন, রামুর বিরুদ্ধে কিছু সিএনজি, টমটম বা মাহিন্দ্র এর চাকা পাংচার হওয়ার কিছু ছবি দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আপনাদের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই আমরা এসব শ্রমজীবী মানুষের পাশে থেকে তাদেরকে আমাদের নিজেদের ঘাম ঝরানো সংগ্রহকৃত নগদ টাকা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ উপহার প্রদান করেছি।
মাননীয় সাংসদ, জেলা প্রশাসক মহোদয়ের পরামর্শ ও নির্দেশনায় আমরা কাজ করছি যেগুলোর তথ্য উপাত্ত আমাদের হাতে ছবিসহ প্রমাণিত। আমরা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। এদেশের মাটি ও মানুষের ঘামের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে আপামর মানুষের সেবায় নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করেছি। ক্ষমতার দাপট দেখাতে নয়, নিজেদেরকে আপামর মানুষের সেবায় সপে দিতে। আমাদের পাশে থাকুন, দেখুন করোনার এই সংকটে আমরা কিভাবে কাজ করছি। উপজেলা প্রশাসন, রামু সবসময় রামুর জনগণের পাশে আছে, থাকবে। আমরা কর্মী, মাঠের শ্রমিক। মাঠেই থাকবো। দয়া করে কেউ অপপ্রচার করবেন না। অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।








