নিউজটি শেয়ার করুন

এনআরসি বিরোধীদের গুলি করে মারার হুঁমকি মন্ত্রীর

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর নাগরিকত্ব আইন বিরোধীদের গুলি করে মারার হুঁশিয়ারি দেয়ায় তার কঠোর সমালোচনা করেছেন বিরোধী নেতারা।

তারা অভিযোগ করেন, অনুরাগ ঠাকুর এমন বিরূপ মন্তব্য করলেও এর বিরুদ্ধে কথা না বলে উল্টো সমর্থন দিয়েছেন ক্ষমতাসীনরা।

এমন অভিযোগের মধ্যেই নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে ফের সাফাই গেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ঐতিহাসিক ভুল শুধরাতেই সিএএ করেছে সরকার।

তবে আইনটিকে ‘বৈষম্যমূলক ও বিপজ্জনক’ আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাব পাস করতে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট।

বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের এ মন্তব্য নিয়ে এখন ভারতব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। নাগরিকত্ব আইনের বিরোধীরাকারী সাধারণ মানুষ ও বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্য করে বেঈমান বলায়, তোপের মুখে তিনি। এমনকি যারা অনুরাগের কথার সমর্থন দিয়েছেন তাদেরও এক হাত নেন বিরোধীরা।

আসাদ উদ্দিন ওআইসি বলেন, কতজনকে গুলি মারবেন আপনি? সরকারের বন্দুকের সব গুলি শেষ হয়ে যাবে- তবুও আমাদের প্রতিবাদ কমবে না। কত সাহস আপনাদের হত্যা করুন, বুক পেতে লড়বো। এই দেশকে আমরা বাঁচাবো। আফসোস হয় নরেন্দ্র মোদি সরকারের ওপর- আপনার মন্ত্রিসভা, পার্লামেন্ট সদস্যরা দেশবাসীকে রক্ষার শপথ নিয়ে এখন হত্যার রাজনীতি করতে চাইছে।

ইতোমধ্যে তার এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। এর মধ্যেই বিজেপির এক পার্লামেন্ট সদস্য সাহিব সিং বর্মা বলেন, দিল্লিতে তার দল ক্ষমতায় থাকলে- এক ঘণ্টার মধ্যে শাহীন বাগের আন্দোলন বন্ধ করে দেয়া যেতো। এদিকে, শাহীন বাগের আন্দোলনের মূল নেতা শার্জিল ইমামকে বিহার থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আসাম নিয়ে মন্তব্য করায় তাকে রাষ্ট্রদ্রোহী আখ্যা দেয়া হয়।

এ অবস্থায় মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক জনসভায় আবারও নাগরিকত্ব আইনের পক্ষে বিজেপি সরকারের অনড় অবস্থানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, মোদির বক্তব্যের পরপর জয়পুরে পাল্টা জবাব দেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, বিজেপি নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসি বাতিল করছে না, অথচ বেকারত্ব দূর করতেও ব্যর্থ হয়েছে তারা।

নাগরিকত্ব আইনকে ‘বৈষম্যমূলক ও বিজ্জনক বিভাজন সৃষ্টিকারী’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস করে যাচ্ছে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট। তার আগে এ নিয়ে পার্লামেন্ট বিতর্ক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।