নিউজটি শেয়ার করুন

এবারো চা নিলামে শীর্ষে ফটিকছড়ির চা বাগান

আবারো চা নিলামে প্রথম হয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলার কৈয়াছড়া ডলু চা বাগান আর চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে কর্ণফুলী চা বাগান। ২০১৯-২০২০ সালের সর্বমোট ৪৫টি নিলাম অকশনের মধ্যে ৩০টির প্রতিবেদন বিশ্লেষণে এই তথ্য পাওয়া যায়। বাগান দু’টির জেষ্ট্য কর্মকর্তা সূত্রে প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চা নিলামে দেশের ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে শীর্ষে আছে উপজেলার ভূজপুর থানাধীন কৈয়াছড়া ডলু চা বাগান। নিলামে এ বাগানে সর্বমোট ৫লাখ ৮২হাজার কেজি চা বিক্রী হয়েছে বলে জানা যায়। যার গড় বিক্রয়মূল্য ২৯৭ টাকা ৯৭ পয়সা। ১৭’শ একরের বাগানটির চলতি বছরের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ছিল সাড়ে ৭লাখ কেজি চা। এ বাগানে রয়েছে সাড়ে ৬’শ জন শ্রমিক।

অপরদিকে, ব্রাকের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী চা বাগানের নিলামে অবস্থান চর্তুথ। নিলামে বাগানটির প্রায় ১৪ লাখ কেজি চা বিক্রী হয়েছে বলে জানা যায়। যার গড় বিক্রয়মূল্য ২৬৭ টাকা। ৬হাজার ৫’শ ৭২ একরের বৃহৎ এই বাগানের চলতি বছরের লক্ষ্যমাত্র ছিল প্রায় ২০লাখ কেজি চা। বাগানে স্থায়ী শ্রমিক রয়েছে ৪ হাজার আর অস্থায়ী ২হাজার শ্রমিক। কৈয়াছড়া ডলু চা বাগানের ম্যানেজার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন বলেন, চা নিলামে আমরা প্রতি বছরই প্রথম হতে পঞ্চম স্থানের মধ্যে থাকি। চারা হতে শুরু করে পাতা উত্তোলণ প্রক্রিয়াজাত করণ পর্যন্ত সবকিছুই নিয়ম,শৃঙ্খলা আর কড়া নজরদারীর মধ্যে থাকে। ফলে ভাল ফলাফলটি আমাদেরই হয়ে থাকে। ফটিকছড়ির হালদা ভ্যালী চা বাগানে ড্রাগন অয়েল গ্রিণ টি, সিলভার নিডল হোয়াইট টি, গোল্ডেন আইব্রো অর্থোডক্স টি ও সিটিসি ব্ল্যাক টি নামের চার ধরণের চা উৎপাদিত হচ্ছে। যার মধ্যে সিলভার নিডল হোয়াইট টি বিদেশেও রপ্তানী হচ্ছে বলে জানা যায়। সর্বপরি চা বাগান মালিকরা মনে করছেন পরিত্যক্ত সরকারি খাস জমি গুলি বাগানের আওতায় আনা গেলে এই শিল্প আরো সমৃদ্ধ হতো ।

চট্টগ্রামের চা সংসদের চেয়ারম্যান হালদা চা বাগানের ম্যানেজার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ভাল মানের চা উৎপাদনের লক্ষে আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি। উৎপাদন ভাল হয়েছে, নিলামে ভাল দামও পেয়েছি। মোটামুটি আমরা সফল। আমাদের লক্ষ্য আরো ভাল করার।

উল্লেখ্য,সারাদেশে ১৬৭টি চা বাগানের মধ্যে চট্টগ্রামে রয়েছে ২২টি। যার মধ্যে ১৭টির অবস্থান ফটিকছড়ি উপজেলাতে। ফলে চট্টগ্রামের জেলা থেকে মোট উৎপাদনের বেশীর ভাগই আসে ফটিকছড়ি হতে। চট্টগ্রামের ২২টি চা বাগান হতে বছরে চা উৎপাদন হয় প্রায় ৮২লক্ষ কেজি। যারমধ্যে ফটিকছড়ির ১৭টি চা বাগান হতে আসে ৭৬ লাখ ৫৮ হাজার ৯শত কেজি। ১৭টি চা বাগানে কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে ৩৫ হাজার বেশি শ্রমিকের।