সিপ্লাস প্রতিবেদক: বাংলাদেশের কোনো বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব না থাকায় অনেক প্রবাসী দেশে বেড়াতে এসে আটকা পড়েন। বিশেষ করে আরব আমিরাত প্রবাসীদের দুর্দশা ছিল সীমাহীন। ফলে একদিকে প্রবাসীরা বিদেশে তাদের চাকরি নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন, অন্যদিকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছিল রেমিট্যান্স আয়ের সম্ভাবনা থেকে।
এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে চলতি মাসের ৬ সেপ্টেম্বর মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের দ্রুত আরটি পিসিআর ল্যাব স্থাপনের নির্দেশ দেন।
প্রবাসীদের করোনা পরীক্ষা করার জন্য রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বসানো হলো আরটি পিসিআর ল্যাব। শনিবার রাতে ল্যাব স্থাপনের কাজ শেষ হলেও এখনও যাত্রীদের করোনা পরীক্ষা শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
ঢাকা সহ দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এখনো চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এখনো আরটিপিসিআর ল্যাব বসানোর কোন আলোচনাই উঠেনি।
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার ফরহাদ হোসেন খানের সাথে সিপ্লাস প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের বিষয়ে আমরা এখনো কোন লিখিত নির্দেশনা পাইনি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ল্যাব স্থাপনের জন্য কোন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে কিনা সেটাও আমাদের জানা নাই। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে এবং আরটিপিসিআর মেশিন মজুদ থাকলে ল্যাব স্থাপনে কমপক্ষে তিনদিন লাগবে বলে তিনি সিপ্লাসকে জানান।
এ ব্যাপারে জানতে সিপ্লাস প্রতিবেদক চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ফজলে রাব্বী’র সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন,চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয় নাই। আপাতত শুধু মাত্র ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই ল্যাবের কার্যক্রম চলবে।
চট্টগ্রাম আর সিলেটের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নাই আপাতত। এই বিষয়ে আমাদের কাছে কোন খবর নাই। যদিও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের । আমাদের কাছে নির্দেশনা আসলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।
ল্যাব স্থাপনের জন্য এখনো কোন টেন্ডারের প্রক্রিয়াই শুরু হয়নি বলে জানান চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন। তিনি আরও বলেন, ঢাকাতে যারা ল্যাব স্থাপনের টেন্ডার পেয়েছে সম্ভবত তারাই এখানেও ল্যাব স্থাপনের কাজ পাবে।
মূলত আরব আমিরাত প্রবাসীদের বাংলাদেশ থেকে আমিরাতে ফেরত যাওয়ার জন্য আরটিপিসিআর টেস্টের দরকার হচ্ছে। দেশের কোন বিমানবন্দরে এই ল্যাব সুবিধা না থাকায় তারা দেশে এসে আটকা পড়েন। অনেকেরই ওয়ার্ক পারমিট আর ভিসার মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে দেশের তিনটি বিমানবন্দরে আরটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
দেশের অধিকাংশ আরব আমিরাত প্রবাসী চট্টগ্রামের বাসিন্দা। তাদের সুবিধার্তে অতি শীগ্রই চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরেটিপিসিআর ল্যাব স্থাপনের জন্য আমিরাত প্রবাসীরা বারবার দাবী জানিয়ে আসছেন।
বিস্তারিত ভিডিওতে…

