সিপ্লাস প্রতিবেদক: বাঁশখালীর বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল পাহাড়ে বিষাক্ত কাঠাল খাইয়ে এবং বিদ্যুতের শক দিয়ে মেরে গোপনে পুঁতে ফেলা হাতির সন্ধান পাওয়া গেছে।
পুঁতে ফেলা হাতির দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ট হয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনের কাছে অভিযোগ করলে তিনি বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
এরই প্রেক্ষিতে বাঁশখালীর একদল সাংবাদিক শনিবার (১৩ জুন) বিকালে বৈলছড়ি ইউনিয়নের অভ্যারখীল পাহাড়ি এলাকায় পুঁতে ফেলা হাতির ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ সময় কালীপুর রেঞ্জের আওতাধীন সাধনপুর বনবিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়,গত ১০-১২ দিন আগে স্থানীয় কিছু লোক বাগানে বিদ্যুতের শক দিয়ে এবং বিষাক্ত কাঁঠাল খাওয়ানোর পর হাতির মৃত্যু হলে বনবিভাগকে না জানিয়ে অভ্যারখীল পাহাড়ি এলাকার জনৈক আবদুল আলিমের জায়গায় হাতিটিকে পুঁতে ফেলা হয়।
আজ ওই পুঁতে ফেলা স্থান থেকে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় জনগণ চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিনকে জানালে তিনি বনবিভাগ ও প্রশাসনকে এ ঘটনা অবহিত করেন।
খবর পেয়ে বাঁশখালীতে কর্মরত সাংবাদিকরা ঐ হাতি পুঁতে ফেলার ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন এবং বিষয়টি নিশ্চিত হন।
এ ব্যাপারে বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কফিল উদ্দিন বলেন, “স্থানীয় জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে চৌকিদার দফাদারকে প্রেরণ করে হাতি পুঁতে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর বন বিভাগ এবং প্রশাসনকে অবহিত করা হয়।এই পাহাড়ি এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে যাদের বিরুদ্ধে হাতিকে নানাভাবে হত্যা করে হাতির মূল্যবান অংশ ও দাঁত বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে।”
এ ব্যাপারে সাধনপুর রেঞ্জের বনবিট কর্মকর্তা জলিলুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় জনগণের খবরের ভিত্তিতে এসে হাতিকে মেরে পুঁতে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে যদিও ঘটনাটি ১০-১২ দিন আগের।যারা এই হাতি হত্যা এবং আমাদেরকে না জানিয়ে অগোচরে মাটি চাপা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
তবে রাতে এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে বনবিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে লাশ উত্তোলন কিংবা বিকল্প অন্য কিছু করা হবে কি না তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান তিনি।

