জসীম উদ্দীন, বাঁশখালী প্রতিনিধি: সম্প্রতি বর্ষার ভরা মৌসুমে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় খানখানাবাদের কদমরসুল পয়েন্টের ভাঙন শুরু হয়েছিল। বাঁশখালী ১৬ আসনের সংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী পদক্ষেপ নিয়ে অবশষে রোধ হলো বেড়িবাঁধ।
অন্যদিক স্থানীয়রা স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে জোর দাবি অবশেষে বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
খানখানাবাদের ইউপি চেয়ারম্যান বদরুদ্দিন চৌধুরী এ খবর দ্রুত জানালেন সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে। তিনি যে কোনো কিছুর বিনিময়ে বেড়িবাঁধ রক্ষায় কাজ করার জন্য পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড়ের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। তাতে রক্ষা হলো বাঁশখালীবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষীত বাঁধের ভাঙন।
জানা গেছে, প্রতিনিয়ত জোযারের টেউ আছড়ে পড়ে মাটির বাঁধে আর তাতে তিল তিল করে ভেঙে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠে। এ ভাঙন রোধ করা না গেলে এলাকার কয়েক হাজার বাড়িঘর ও ফসলি জমি হুমকির মধ্যে পড়ত।
সরেজমিনে বেড়িবাঁধের ভাঙনস্থল পরিদর্শনে দেখা যায়, অর্ধ শতাধিক শ্রমিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্থানীয় জনগণ বাঁশখালীর অপর স্থায়ী রেড়িবাধেঁর সাথে এটাও স্থায়ী করতে সাংসদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।
কদমরসুল এলাকার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় , ভাঙনটি রক্ষা করা না গেলে জনগণ প্রচুর ক্ষতির মুখে পড়ত । জনগণের কথা বিবেচনা করে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ভাঙনটি রোধ হয়েছে রক্ষা পেয়েছে এলাকার জনগণ ।
ভুক্তভোগীরা জানায়, বাশঁখালীর জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর প্রচেষ্টায় এ কাজে পাউবো ২০১৩ সালে বাঁধের নকশা চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রাথমিকভাবে ২০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়। পরে নির্মাণ সামগ্রী দাম বাড়া ও ঠিকাদারদের আপত্তির মুখে ২০১৫ সালে বাঁধ নির্মাণে ২৫১ কোটি ২৯ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকার অনুমোদন দেয় সরকার। ২০১৫ সালের ১ মে থেকে ২০১৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কাল ধরা হলেও তা দুই মেয়াদে সময় বৃদ্ধি করা হয়।
চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি বাঁশখালীর উপকুলীয় ছনুয়া ঐরাকার বেড়িবাধেঁর কাজ পরিদর্শনকালে এ বছরের জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব:) জাহিদ ফারুক এমপি ।
কিন্তু কাজ এগিয়ে নেওয়া না যাওয়াতে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের তোড়ে ভাঙছে ছনুয়ার খুদুকখালীসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আর খানখানাবাদের কদমরসুল হাছিয়াপাড়া এলাকায়।
খানখানাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বদরুদ্দিন চৌধুরী বলেন, বর্তমানে জোয়ারের তোড়ে খানখানাবাদের কদমরসুল পয়েন্টে ভাঙন শুরু হলে সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর পদক্ষেপে তা রোধে ১৬৫০টি বালির বস্তা ফেলা হবে। আশা রাখি ভাঙনটা রোধ হবে অচিরেই তাতে স্থায়ী রাঁধ নির্মাণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে পাউবো কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন এবং পরিমাপ করে গেছে।
পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী প্রমশন চাকমা জানান, বাঁশখালীর উপকূলীয় বাঁধের কদমরসুল এলাকায় ভাঙন এলাকায় প্রায় ২২শত জিও ব্যাগ দেওয়া হচ্ছে। জরুরি মুহূর্তে এ কাজ ছাড়া অন্য কিছু করার উপায় নেই। স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাঁশখালী১৬ আসনের সাংসদ মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, অচিরেই স্থায়ী বাঁধ করে বাঁশখালীবাসীকে নিরাপদে রাখব এটা আমার অঙ্গীকার ছিল বর্তমানে এটা বাস্তবে রুপ ধারণ করছে। অতীতের কথা চিন্তা করলে দেখা যাবে এখনো ঘূর্ণিঝড়ের সময় ৩ থেকে ৪ নং সতর্ক সংকেত দেখাইলে উপকূলীয় এলাকার লোকজন তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে আসত। কিন্তুু এখন ১০ নং মহাবিপদ সংকেত দেখা দিলেও উপকূলীয় এলাকার লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে আসে না কারণ এখন বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়ে গেছে। আমার উপকূলীয় এলাকার লোকজন এখন শান্তিতে বসবাস করতে পারছে।








