নিউজটি শেয়ার করুন

এসআই স্ত্রীর মামলা তদন্ত করেন স্বামী!

এসআই স্ত্রীর মামলা তদন্ত করেন স্বামী!
ছবি: সংগৃহীত

সিপ্লাস ডেস্ক: কক্সবাজারে কর্মরত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এক কর্মকর্তা চট্টগ্রামে ইয়াবাসহ আটকের রেশ কাটতে না কাটতে এবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন একই অফিসের আরেক কর্মকর্তা এসআই লাভলী ফেরদৌসী।

অফিস থেকে দায়িত্ব পাওয়া মামলার তদন্তে সঙ্গে নেওয়া তার স্বামী ‘ওসির চেয়ে বড় কর্মকর্তা’ সেজে প্রভাব বিস্তার করছেন। মামলার তদন্ত রিপোর্ট এদিক-সেদিক করতে সুবিধামতো হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের টাকা। চাহিদামতো টাকা দিতে না পারলে বিবাদীর কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিয়ে রিপোর্ট বাদীর বিরুদ্ধে দেয়ার অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে।

মামলার রিপোর্ট দেয়ার বিষয় নিয়ে আর্থিক লেনদেনের একটি অডিও সম্প্রতি ফাঁস হলে আলোচনায় আসেন এসআই লাভলী। এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

এছাড়াও ধার নেয়া টাকা আত্মসাৎ করে প্রতারণা ও পুলিশী প্রভাব খাটিয়ে স্বামীকে দিয়ে অন্যের বসতবাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগ দেওয়া লাভলী এসআই হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পরও ডিপার্টমেন্ট পাল্টিয়ে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় দ্বিতীয় স্বামীর বাড়ি কক্সবাজারে অবস্থান করছেন।

ফাঁস হওয়া অডিওতে শোনা যায়, বাদীপক্ষের জনৈক ব্যক্তি দশ হাজার টাকা দেয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে এসআই লাভলী বলেন, আমি যা আশা করছিলাম তার চার ভাগের একভাগও হয়নি। না না না, দশ হাজার দিলে হবে না। আমরা দু’দিক হাতে রেখে কাজ করি। অন্য রিপোর্ট দেওয়াও কোনো বিষয় না।

অডিও ফাঁস হওয়ার পর পিবিআই কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এছাড়াও পুলিশী ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যের বসতবাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এসআই লাভলীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় থানায় প্রভাব খাটিয়ে ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাভলীর স্বামী শাহজাহানের নেতৃত্বে চাচার বসতবাড়ি দখল চেষ্টার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। ইতোমধ্যে কয়েকবার বাড়িতে হামলাও করেছে বলে অভিযোগ করেছেন তার (শাহজাহানের) চাচা রামুর চেইন্দা এলাকার ভুক্তভোগী ছৈয়দ আহমদ।

তিনি বলেন, আমার ছেলে সন্তান না থাকায় ভাতিজারা প্রায় সময় চাষের জমি দখলের চেষ্টা চালায়। তাদের থেকে আলাদা হয়ে আমার বসতবাড়ি সংস্কার করতে গেলে সেখানে বাধা দেয় শাহাজাহান ও তার সহোদররা। আমি আইনের আশ্রয় নিতে গেলে এসআই লাভলী থানায় (রামু থানায় একসময় কর্মরত ছিলেন) প্রভাব বিস্তার করেন। ফলে ন্যায় বিচার পাচ্ছি না। বর্তমানে আমার অবিবাহিত দু’মেয়ে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। একজন পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাই আমার ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে গত ১১ আগস্ট পিবিআইয়ের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি)সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।

জানতে চাইলে এসআই লাভলী ফেরদৌসী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তদন্তের জন্য আমাকে তেমন মামলা দেওয়া হয় না। এরপরও আমার স্বামীর বাড়ি যেহেতু এখানে, বাদী বিবাদী হয়তো সুবিধা নিতে আমার স্বামীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে। কিন্তু, স্বামীর প্রভাব মুক্ত থেকেই কাজ করে আসছি। তবে, প্রচার পাওয়া অডিওর বিষয়ে কোনো সদুত্তর দেননি তিনি।

এ বিষয়ে পিবিআইয়ের কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) সরওয়ার আলম গণমাধ্যমকে  বলেন, অভিযোগগুলো অবগত হয়েছি। গত ৬ মাসে লাভলীকে মাত্র একটা মামলা তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে, বসতবাড়ি দখল চেষ্টার বিষয়টা তাদের পারিবারিক বলে জেনেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here