Site icon CPLUSBD.COM

এয়ারপোর্ট রোডে শীতকালেই বর্ষাকালের কাদা! (ভিডিও সহ)

নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরীর বিমানবন্দর সড়কের সল্টগোলা ক্রসিং থেকে পতেঙ্গা সৈকত পর্যন্ত অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ কাজের জন্য রাস্তার এক তৃতীয়াংশ অংশ এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। মুলত সল্টগোলা ক্রসিং থেকে বন্দরটিলা অংশে এক্সপ্রেসওয়ের পিলারের জন্য রোরিং,পাইলিং সহ অন্যান্য কাজ চলছে। যেখানে পাইলিং এর কাদা পানি এবং বড় বড় গর্ত পুরো রাস্তার ভয়াবহতা আরো বাড়িয়ে তুলেছে। বিশেষ করে বন্দরগামী ভারী যানবাহন এবং অফিস ছুটির পর যানজট আরো তীব্র হয়ে উঠে।

বিগত ৩০ নভেম্বর ২০২০ নগরীর বন্দরটিলা এলাকায় মোটর সাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন চট্টগ্রামের একটি দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক আল আমিন সিকদার।

তিনি সিপ্লাসকে বলেন, পাইলিং এর কাজ চলাকালীন কাদা যখন রাস্তায় চলে আসে তখন তাতে পানি মিশ্রিত হওয়ার পরে তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়, গাড়ির গতি কম থাকা সত্ত্বেও ব্রেক করার সঙ্গে সঙ্গেই স্লিপ কেটে পড়ে যায়। এ নিয়ে আমি পাঁচবার ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছি। পা মচকে যায় এবং ১০ দিন বিশ্রামে থাকতে হয়েছে।

শুধু আল আমিন নয় একই জায়গায় ভাঙ্গা রাস্তা এবং পাইলিংয়ের কাদার জন্য অনেকেই নিয়মিত দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন । এমনকি গাড়ি নষ্ট হয়ে দীর্ঘ যানজট লাগার কথাও বললেন দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মোঃ মুসলিম।

ভিডিও দেখুন:

তিনি সিপ্লাসকে বলেন, একেতো রাস্তা ছোট হয়ে গেছে তার উপর বিভিন্ন জায়গায় গর্তের কারণে কিছুক্ষণ পরপর গাড়ি নষ্ট হয় যাচ্ছে। যার ফলে পুরো রাস্তা জ্যাম হয়ে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙ্গা রাস্তা ও বড় বড় গর্তের কারণে নিয়মিতই পথের মধ্যেই বিকল হয়ে পড়ছে বড় বড় ট্রলি। কেননা এই সড়কেই রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর, সিইপিজেড, কর্ণফুলী ইপিজেড, ৬ টি বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কাদা আর ধুলোবালির ভোগান্তি।

কাদায় সয়লাব বিমানবন্দর সড়ক (ছবি: জয় দে)।

২০১৭ সালের ১১ জুলাই একনেক সভায় ৩ হাজার ২৫০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প যখন অনুমোদন পায়, তখন তিন বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান পাইলিংয়ের কাঁদা গুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে গাড়ি চালকদের এই ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে হতো না।

এদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স এর দায়িত্বরত জুনিয়র প্রকৌশলী এস এম জাকারিয়া তানজিম জানান- রাস্তার আলাদা বিভাগ রয়েছে তারা এটা নিয়ে কাজ করছে। যে সকল কাদা কাজ করার সময় বের হচ্ছে সেগুলো আমরা এক্সকেভেটর মেশিন দিয়ে সরিয়ে ফেলছি।

এর আগে গত ১২ আগস্ট এই সড়ক পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরশন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন ২০ আগস্টের মধ্যে সড়কের গর্ত ভরাটের মাধ্যমে কার্পেটিং করে যান চলাচলের উপযোগী করতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা সিডিএকে নির্দেশ দেন।

লেগে আছে দীর্ঘ যানজট

তবে এরপরও সড়কের এই বেহাল অবস্থার কারণে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে সিপ্লাসকে বলেন – প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন এলাকা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব তাদের, রাস্তাঘাট ভেঙে গেলে তা ঠিক করে দেওয়ার দায়িত্বও তাদের। কিন্তু বারবার বলার পরেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। যদি তারা সঠিকভাবে কাজের ডিজাইন অনুযায়ী কাজ না করে তবে তাদের কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। মানুষের অসুবিধা যা হচ্ছে তা নিরসন না করে তারা ঠিকভাবে কাজ করছে না।

উল্লেখ্য নগরীর লালখান বাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত চারলেইনের এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে ১৬ কিলোমিটার। এদিকে জমি অধিগ্রহণের জন্য অপেক্ষা, ট্রাফিক বিভাগের অনুমতি না পাওয়া, বিকল্প সড়ক চালু হতে বিলম্ব, চট্টগ্রাম বন্দরের আপত্তিতে নকশা পরিবর্তন, বৃষ্টিসহ নানা কারণে বিলম্বিত হচ্ছে এ প্রকল্পের কাজ।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সুত্রে জানা যায়, প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হলেও কাজ শেষ হতে ২০২৩ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে । বর্তমানে নগরীর লালখান বাজার থেকে এই সড়ক পথে বিমানবন্দর কিংবা পতেঙ্গা সৈকত যেতে সময় লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘন্টা । তবে নির্মানাধীন এই এক্সপ্রেসওয়ের কাজ সম্পন্ন হলে সময় লাগবে ২০ থেকে ২৫ মিনিট। তাই দ্রুতগতিতে প্রকল্পের এই কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ লাঘব হবে নগরবাসীর।

আআ/ফসি