ওমান প্রতিনিধি: মধ্যপ্রাচ্যের ওমানে গুর্ণিঝড় ‘শাহীনের’ তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাস্কাট সিটির রিসেল শিল্পঞ্চলে দুই প্রবাসী শ্রমিক দেয়াল ধসে নিহত হয়েছেন বলে দেশটির রাষ্ট্রিয় গণমাধ্যম খবর প্রচার হয়েছে। নিহতদের নাম পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও তারা এশিয়ার নাগরিক ও শ্রমিক বলে জানানো হয়েছে।
পুরো ওমান রবিবার থেকে দুইদিনে সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
দোকানপাট, গণপরিবহনসহ প্রায় সবকিছু বন্ধ থাকায় জনজীবনে স্থবিরতা বিরাজ করছে। শনিবার থেকে সৃষ্ট গুর্ণিঝড়টি এখনো পুরোপুরি আঘাত না করলেও তার প্রভাবে অতিবৃষ্টিসহ প্রবল হাওয়ায় জলোচ্ছ্বাস সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত হয়ে গেছে শহরের বহু সড়ক। মাস্কাট সিটির প্রধানতম সড়ক সুলতান কাবুজ স্ট্রেইটের গোবরা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল সম্পূর্ণরুপে বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে ঘুরে রাজধানী মাস্কাট সিটির বেশ কিছু এলাকায় সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণরুপে বন্ধ দেখতে পাওয়া যায়। সড়কের পাশে গাছপালা ভেঙ্গেও অনেক পথ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া মাস্কাট সিটির বাহিরে বারকা, সাহাম ও সোহার এলাকায় অতিবৃষ্টির ফলে প্রায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত। প্রবল স্রোতে পাহাড়ের পাদদেশে বহু গাড়ি তলিয়ে গেছে।
এদিকে ওমানের সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ মাস্কাট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রবিবারের সকল প্রকার ফ্লাইটের সিডিউল বাতিল করে পূণ: নির্ধারণ করে দিয়েছে।
ওমানস্থ বাংলাদেশ সোস্যাল ক্লাবের সভাপতি সিরাজুল হক জানান, গুর্ণিঝড় ‘শাহিন’ পুরোপুরি আঘাত না হানার পূর্বে যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে না জানি পুরোপুরি আঘাত হানলে কোন ধরণের ক্ষতি হয়? যেসব প্রবাসীরা ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস করেন তারা যেন নিজেদেরকে ঝুঁকিমুক্ত রাখতে অন্যত্র সরে যাওয়ার আহবান জানাই।
গুর্ণিঝড় মোকাবেলায় ওমান সরকারের ব্যাপক প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে বলেন, জনজীবন স্বাভাবিক করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা মাঠে নেমেছে। জরুরি সেবা ৯৯৯৯ এর মাধ্যমে সাথে সাথে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার কাজ চালানো হচ্ছে।
ওমানস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র জানিয়েছে, তারাও বাংলাদেশীদের খবরা খবর নিচ্ছেন। যে কোন প্রয়োজনে তারাও ওমান সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

