Site icon CPLUSBD.COM

ওয়াসার কারণেই বিলম্বিত হতে পারে সিডিএর এলিভেটেড এক্সপ্রেস প্রকল্প বাস্তবায়ন

শাহরুখ সায়েল: বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ওয়াসার অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণে সড়কগুলোতে শীতকালেও পানির ফোঁয়ারা বইছে। কিন্তু এই বিষয়ে ভাবার জন্য যেন কেউ নেই। ফলে সড়কগুলো পানিতে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি বাড়ছে জনদুর্ভোগ। আবার এ সব কারণে সিডিএ র প্রকল্পগুলোর ব্যয় বাড়ছে, একই সাথে বাড়তে পারে প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ। অথচ ২০২০ সালে সমাপ্ত করার লক্ষ্য নিয়ে শুরু করা কাজটি এক মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২১ সালে সম্পন্ন করার কথা ছিলো।বর্তমানে আবারো বাড়িয়েছেন মেয়াদ যা ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে চলছে নানা সংস্থার উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নগরীর লালখান বাজার থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত নির্মিত হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। প্রকল্প মেয়াদ বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে ওয়াসা একটি বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। বাস্তবায়নে কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড।সিডিএ’র প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন,চট্টগ্রাম ওয়াসাকে রাস্তা থেকে পাইপ সরিয়ে রাস্তার পাশে নতুন পাইপলাইন করার জন্য সিডিএর পক্ষ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়েছি। তবুও কাজ হচ্ছে না।

অথচ প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকেই প্রকল্প এলাকায় সড়কে ওয়াসার পাইপ ফেটে বেড়েছে মূল সড়কসহ আশেপাশে জনদুর্ভোগ।তাছাড়া সড়কে বিভিন্ন জায়গায় খানা-খন্দ, শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় পানি,নালাগুলোতে এলোমেলো পাইপ, চোরাই পানির পাইপ আর সংস্কারের অভাবে গাড়ি চলাচল ও জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে জনদুর্ভোগ কমাতে ২৪ ঘন্টা কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স কর্পোরেশনের রোডস ডিপার্টমেন্টের  ইঞ্জিনিয়ার মোঃ মিঠু।

তিনি বলেন, প্রকল্পে কাজ করার সাথে সাথে আমরা রাস্তার কাজও করে যাচ্ছি নিয়মিত কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে ওয়াসার লিকেজ পাইপ ও অপরিকল্পিত পাইপলাইন।

পাইপ লিকেজ থাকায় নিচ থেকে পানি উঠা ও অপরিকল্পিত পাইপলাইনের কারনে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ার কারনে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানান মোঃ মিঠু। তিনি বলেন,  শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় পানি থাকার কারনে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা সিডিএ কে বিষয়টা জানিয়েছি।

এ বিষয়ে সিডিএ’র প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মোঃ মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা জনদুর্ভোগ লাঘবে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প পরিচালনা করছি। আমাদের রাস্তা সংস্কার কাজের বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ওয়াসার পাইপলাইন লিকেজ। পাইপলাইন লিকেজ থাকার কারনে শুষ্ক মৌসুমে রাস্তায় পানি থাকে, আর পানি থাকার কারনে সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সরু ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও ওয়াসার অপরিকল্পিত পাইপলাইন হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। ফলে রাস্তায় পানি জমে থাকছে। তাছাড়া রাতের আঁধারে সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও টিএনটি’র রাস্তা খোঁড়া-খুঁড়ির কারনে আমরা কাজ করতে বাধাগ্রস্থ হচ্ছি। জনভোগান্তি কমাতে আমরা আজ পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেছি। চট্টগ্রাম ওয়াসাকে রাস্তা থেকে সরিয়ে রাস্তার পাশে নতুন পাইপলাইন করার জন্য সিডিএর পক্ষ থেকে ১৮ লাখ টাকা দিয়েছি।

জনগনের ভোগান্তি কমানোর জন্যই আমাদের এ উদ্যোগ।

ওয়াসার এই অব্যবস্থাপনার বিষয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল্লাহর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।